Thursday, March 26, 2009
কি দেখার কথা কি দেখছি? (আমার সংস্করন)
কি দেখার কথা কি দেখছি?
কি শোনার কথা কি শুনছি?
কি ভাবার কথা কি ভাবছি?
কি বলার কথা কি বলছি?
৩৮ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি ।।
স্বাধীনতা কি পিলখানাতে নৃশংস হত্যাকাণ্ড?
স্বাধীনতা কি গনকবরে গলিত লাশের গন্ধ ?
স্বাধীনতা কি অভাগা বধূর বৈধব্য বরণ?
স্বাধীনতা কি উদ্বিগ্ন, উৎকন্ঠিত জনগন?
স্বাধীনতা কি ভাইয়ের গুলিতে ভাইয়ের মৃত্যুবরণ,
স্বাধীনতা কি জিম্মি শিশু, নারীর বস্ত্রহরণ??
স্বাধীনতা কি ছেলেহারা মা’র সকরুণ আকুতি?
স্বাধীনতা কি স্বামীহারাদের বিবর্ণ সব স্মৃতি?
স্বাধীনতা কি এতিম শিশুর অবুঝ মনের প্রশ্ন??
স্বাধীনতা কি বাবা হারা ঐ নতুন শিশুর জন্ম??
স্বাধীনতা কি নিখোঁজের খোঁজে লাশের ঘরে সারারাত,
স্বাধীনতা কি স্বদেশের বুকে স্বদেশীর হাতে শাহাদাত???
স্বাধীনতা কি সীমান্তে পাঠানো প্রতিবেশীদের সৈন্য?
স্বাধীনতা কি অবাধে আসা চোরাচালানের পণ্য??
স্বাধীনতা কি মাথা পেতে নেয়া ভিনদেশীদের অভিযোগ?
স্বাধীনতা কি তদন্ত কাজে বিদেশী বাহিনী নিয়োগ??
স্বাধীনতা কি স্বদেশে বসেই পরদেশীদের লেহন?
স্বাধীনতা কি বিচারের আশায় অপেক্ষমান জনগন??
আজ নেই বর্গী, নেই ইংরেজ, নেই পাকিস্তানী হানাদার,
আজো কেন তবু আমার মনে শুন্যতা আর হাহাকার??
আজ তবু কি লাখো শহীদের রক্ত যাবে বৃথা???
আজ তবু কি ভুলতে বসেছি স্বাধীনতার ইতিকথা …???
Friday, March 20, 2009
আমার পনেরো টাকা খেয়ে কি সে বড়লোক হবে?
সারাদিন কাজের চাপে কোনোদিকে তাকানোর সুযোগ হয়না। তাই এই রিকশা করে বাসায় ফেরার মুহূর্তটাকে একটু উপভোগ করার চেষ্টায় থাকি সবসময়। প্রতিদিনের মতো বিল্ডিং এর ভীড়ে আকাশটা হারিয়ে যাচ্ছে বলে দুঃখ করছিলাম আর সদ্য গড়ে ওঠা অসম্ভব সুন্দর সিডিএ মসজিদটির দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম, এইখানে একদিন নামায পড়তে আসতে হবে।
এমন সময় রিকশাওয়ালা হঠাৎ বলে উঠলেন "আমার পনেরো টাকায় কি সে বড়লোক হবে?"
ভাবনায় ছেদ পড়ল আমার। কৌতূহলী হয়ে জানতে চাইলাম, "চাচা, কি হৈসে?"
"আপনি এখন যেখানে যাচ্ছেন, সেখান থেকেই এক স্টুডেন্ট কে নিয়ে আসছিলাম একটু আগে, মেডিকেল হোস্টেল থেকে..." রিকশাওয়ালার শুদ্ধ উচ্চারণ শুনে স্তম্ভিত হয়ে আমি কান পেতে রই। রাস্তার শত শত রিকশা, গাড়ি, ট্যাক্সির ক্রিং ক্রিং আর ভেঁপুর শব্দে অন্য সময় কানে হাত দিয়ে বন্ধ করে থাকা আমার কানে যেন আর কোনো শব্দই যাচ্ছিলনা। মনোযোগ দিয়ে শুনে যাচ্ছিলাম অনেকক্ষন থেমে থেমে, অনেক দীর্ঘশ্বাস ফেলে, কখনো বা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলে যাওয়া কথাগুলোঃ
"...আমি ওঠার সময়ই জিজ্ঞেস করেছিলাম- 'আপনি কি গোলপাহাড়ের মোড়ে নামবেন, নাকি আরো সামনে যাবেন?' সে বলল, 'মোড়েই নামব'। তারপর গোলপাহাড়ের মোড়ে যখন আসলাম, সে বলে আরো সামনে যেতে। আমি বললাম যাবোনা। সাথে সাথে ছেলেটা নেমে হাঁটা দিল। আমি তাকিয়ে থেকে বললাম "'যাক, এই পনেরো টাকা আমি আল্লাহর নামে সদকা করে দিলাম'"
তাচ্ছিল্যের হাসিটা আমার চোখ এড়াল না।
বলে যাচ্ছিলেন তিনি, "আমি মনে করি মূর্খরাই অনেক ভালো। এরা অন্তত গরীবের টাকা মেরে খায়না। শিক্ষিত হয়ে যারা মূর্খের টাকা মেরে খেতে পারে তাদের শিক্ষার কোনো মূল্য আছে?"
নিজে "শিক্ষিত" হয়ে এক "মূর্খের" কাছে এমন কথা শুনতে হচ্ছিল বলে নিজেকে ধিক্কার দেয়া ছাড়া, নিজের শিক্ষার জন্য নিজের লজ্জিত হওয়া ছাড়া আর কীইবা করার আছে? শুনে যাচ্ছিলাম উনার চাপা ক্ষোভের উদ্গীরণঃ
"ছেলেটা দেখতে এতো সুন্দর! ফর্সা চেহারা, ইয়া লম্বা গড়ন, যা সুন্দর ফিগার! কিন্তু এত সুন্দর একটা মানুষের ভেতরটা এত পঁচা হয় কি করে?"
আমি তাকিয়ে থাকি লা-জবাব...
বিরতি দিয়ে দিয়ে, হাফ ছেড়ে ছেড়ে, মনের ভেতরে চেপে থাকা অনেক ক্ষোভ, অনেক রাগ ঝেড়ে ঝেড়ে তিনি বলেই চললেন...
"কিন্তু, আমার যদি সেই বয়স থাকত, আমার যদি সেই শরীর থাকত- ছাড়তাম না আমি, এতো সহজে তাকে ছাড়তাম না...
আমার পনের টাকা। আল্লাহ্ তো কোরানে লিখে দিয়েছে,আমার হক খেয়ে সে পার পাবে?"
বার্জার অফিসের উল্টোদিকের মসজিদটি পার হওয়ার সময় মাগরিবের আজান আসছিল ভেসে- একটু বিরতি দিলেন তিনি।
রিকশা তখন চট্টেশ্বরী রোডের ঢালু পথ দিয়ে নামা শুরু করল।
"এই পথ দিয়েই একটু আগে তাকে নিয়ে যাচ্ছিলাম। কি কষ্ট এই পথ বেয়ে ওঠা, চিন্তা করা যায়?" আবার দীর্ঘশ্বাস। "আমি দোয়া করি, বাবা, তোমাকে যেন আল্লাহ কোটিপতি করে। কোটি কোটি টাকার মালিক করে"
সেই তাচ্ছিল্যের হাসিটি আবার। তীরের মতন প্রাণভেদী শোনালো এবার...
গন্তব্যে পৌঁছে গেছি ততোক্ষনে। কোনোমতে সান্ত্বনার মত কিছু একটা বললাম, "চাচা, আপনি ভাববেন না, আল্লাহ হাশরের দিনে সেই পনের টাকার জন্য হলেও স্টুডেন্ট টাকে আটকে রাখবে। আপনি সেদিন অন্ততঃ আল্লাহর কাছে বিচার পাবেন"।
"মূর্খ" লোকটির দিকে "শিক্ষিত" আমার তাকানোরও যেন সাহস নেই। নিচের দিকে তাকিয়ে কোনরকম ভাড়াটা মিটিয়ে চলে এলাম...।
একবার মনে হয়েছিল, আমার কাছ থেকে পনেরো টাকা দিয়ে দেই, কিন্তু তখন আবার মনে পড়ল তার দৃঢ় ব্যক্তিত্বপূর্ণ উচ্চারণ "সেই পনেরো টাকা আমি আল্লাহর রাস্তায় সদকা করে দিলাম"। নাহ, সেই ব্যক্তিত্বের কাছে আমি আর আমার পনেরো টাকা অনেক অনেক ক্ষুদ্র...।
তার চাইতে আমার বোধহয় উনার কাছে পা ধরে মাফ চাইলেই ভালো হতো। আমাদের "শিক্ষিত" সমাজের পক্ষ থেকে একজন "শিক্ষিত" হিসেবে এই "মূর্খ" লোকটার কাছে পায়ে ধরে মাফ চাইলেই হয়তো উনার ক্ষোভ কিছুটা কমতো!
কিন্তু, এসবের কিছুই না করে, আমি আমার অনেক আহত কিন্তু "শিক্ষিত" মন নিয়ে, "শিক্ষিত" শরীরটাকে বইয়ে আমার ঘরে ফিরে এসে আরো বেশি "শিক্ষিত" হতে মনোনিনেশ করি...।
কিন্তু মনের ভেতর কোথায় যেন একটা তীব্র হাহাকার চিৎকার করে ওঠে...
এক "মূর্খ" রিকশাওয়ালা পনের টাকা সদকা করে দিয়ে এই "শিক্ষিত" সমাজের প্রতি যে ধিক্কার দিয়ে গেল, তা শোনার লজ্জা আমি কোথায় রাখি???
Friday, October 31, 2008
দু'দিনের ভিসা
[চাচার সাথে পরিচয়টা হয়েছে অফিশিয়াল কারনেই। উনি আমাদের অফিসের একটি কাজ করে দিয়েছিলেন গত জুলাইয়ে। কাজটা গোছানোর দায়িত্ব আবার দেয়া হয়ছিল আমার মত একেবারেই আনাড়ি পুচকাকে-তখনো কেবল এক মাস হলো আমি ঢুকেছি ঐ অফিসে। আমি তো উনার পরিচয় পেয়েই ভয়ে অস্থির। পরে সব ঠিকঠাক মতো হল, আর বোনাস হিসেবে এমন চমৎকার একজন মানুষের সাথে ব্যক্তিগত পরিচয়টাও হয়ে গেল। উনি অবশ্য চাচা হয়ে উঠেছেন আরো পরে, যোগাযোগটা অব্যাহত ছিল বলেই।
ওনার ব্লগের এই পোস্টটা পড়ে ভীষন অবাক হয়েছিলাম, আমার নিজের শহরে এমন নৃশংস ঘটনা নিত্যদিন ঘটে যাচ্ছে জেনে। তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম অনুবাদ করে আমার ব্লগে দিব। অনুমতিও মিলল চাইতেই। তবে ম্যালাদিন হয়ে গেল, লিখব লিখছি করে লিখা হয়ে উঠেনি।
আজ বহুদিন পর ভাবলাম, এখনই সময়। চুম্বক অংশটা মেইলে ছিল, ঐটাই অনুবাদ করেছি। বাকিটা পড়ে নেয়ার দায়িত্ব পাঠকের হাতে তুলে দিলাম।]
ওদের গানের সুর ভেসে আসে। হৃদয়ছোঁয়া সুরে সহজ-সরল জীবনের গান। সুরেলা গান আর নৃত্যের ছন্দময়তার সাথে পা ফেলে ওরা এগিয়ে যায়, গমনপথে মিথ্যে সৌন্দর্য্যের পদচ্ছ্বাপ ফেলে।বুঝতে দিতে চায়না কাধেঁর ওপর বয়ে চলা ধাতব পাতের ভর পৃথিবীসম।
ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বর্জ্য ধাতুর ওপর কাদার কারুকাজ। তার ওপর খালি পা ফেলে ফেলে যাওয়া; “বিপজ্জনক” শব্দের এর চেয়ে ভাল উদাহরণ কমই হয়। তার ওপর যদি হয় বৃষ্টি, তবে তো কথাই নেই। একটু পিছলে পড়া মানে যে কত বড় ক্ষতির আশংকা, ভাবতেই গা শিউরে ওঠে!
তবুও, সাবধানি পা ফেলে তাদের পথচলা থেমে নেই। থেমে নেই গান গাওয়াও- এ যেন মৃত্যুর গান, অবিরাম মৃত্যুর পথে হেঁটে চলার সংগ্রামের গান।
"দুই দিনের ভিসা নিয়া এ মিছা দুনিয়ায়
কেন পাঠাইল আল্লায়
কেন পাঠাইল রে
দিয়ারে ও সুখ জ্বালা
পাঠাইলো একেলা
এ কেমন খেলা আল্লায়
খেলাইল রে?
জাহাঙ্গীরই ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এর বাইরে পড়শীদের একটু আধটু দাক্ষিণ্যর ওপরও নির্ভর যে করতে হতোনা তা নয়। জাহাঙ্গীরের আহত হওয়ার সংবাদটা তাই পুরো পরিবারকেই অকূলে ভাসিয়ে দিতে যথেষ্ঠ ছিল। “এই গরীব হওনের কারনেই আমার পোলাগো এই জীবনে পা দিতে হৈসে। আমার জাহাঙ্গীর যদি বাইচা ফিরে আসে ওরে আমি আর ঐ ইয়ার্ডে পাঠাইতেসিনা”।
......
জাহাঙ্গীর আর "বাইচা" ফিরে আসেনি। একটু অস্ফুটে কথা বলেছিল একদিন, মনে হয়েছিল ফিরে আসবে। কিন্তু সেই-ই শেষ। পরের দিন সকালেই জাহাঙ্গীর নিষ্ঠুর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরপারে চলে গেল। এই দুর্মূল্যের বাজারে চিকিৎসাদির একগাদা বিল বাঁচাতে হয়তো এইটাই দরকার ছিল।
চট্টগ্রামের শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি জাহাজ ভাঙতে গিয়ে আরো এক শ্রমিকের মৃত্যু হল।
এখানে বসে আমরাই জানতে পারিনা, আর অনেক দূরে-নিশীথ সূর্যের দেশ নরওয়েতে বসে সেই জাহাজের মালিকেরা কখনো জানবে কী, জাহাঙ্গীর নামের কেউ কখনো জন্মেছিল?
বিঃদ্রঃ অনুবাদে বিশেষ সহযোগিতার জন্য টক্স কে ধন্যবাদ।
Thursday, October 23, 2008
আজ ঘুম ভাঙ্গাতে কে যে ডাকে ইশারায়...
হতে পারে। এমন প্রায়শঃই হয়ে থাকে। কখনও মাস-কিংবা বছরের জন্য- ইচ্ছেটা একদম মরে থাকে। মরে থাকে বললে একটু ভুল হবে, বলি ঘুমিয়ে থাকে- কুম্ভকর্ণের মতো।
লেখার ইচ্ছের কথা বলছিলাম।
অনেকদিন কিছু লেখা হয়না, মানে লিখতে ইচ্ছেই করেনা। ব্যাঙএর মতো একবার নয়, বছরে কয়েকবার হাইবার্নেশনে যাওয়া আমার এই ইচ্ছেটার নিত্য অভ্যাস।
এ কয়েক বছরের ব্লগ জীবনে এমনটা অনেকবারই হয়েছে।
ঈদের ব্যস্ততার পর অনেকটা দিনই তো চলে গেল। একবার ভেবেছিলাম বাড়িতে গিয়ে বয়সটা কিভাবে দশ বছর কমে গেল, আর সেই পিচ্চিকালের মত কত্ত মজাই না করলাম, তা নিয়ে ঈদের ছুটি শেষ হতেই লিখব।
তার আর সময় হলো কই। ছুটি শেষ তো বয়সটাও কিছু টের পাওয়ার আগেই এক লাফে বেড়ে গেল। দ্রব্যমূল্যের মত- বাড়তে গেলে একটু বেশিই বাড়ে- কমেছিল দশ, কিন্তু বাড়ল পনের। বয়স বাড়ার সাথে বাড়ল রোগ বালাই- ব্লগ আর লেখালেখিতে একদম এলার্জি ধরে গেল দেখি!- একে কি ডায়াবেটিস বলা যায়? লেখালেখি বুঝি মিষ্টি জাতীয় কিছু!!
তারপর আর কি, অফিস, জব, ব্যস্ততা, আর অতিরিক্ত ভারের ক্লান্তি...।
এই ফাকে বিদেয় নিল ইচ্ছেটা- ঐ যে লিখার ইচ্ছের কথা বলছিলাম না...বড্ড খেয়ালি সে - একবার যাব বলল, তো আর থামানোর জো নেই।
ক্লান্ত আমিও আর বাধা দিলাম না।
শেষতক একটা অবসর মিলল বেশ কিছু সময়ের জন্য। বয়সটাকে এক টানে নামিয়ে নিলাম আগের জায়গায়। নট নড়ন চড়ন বলে বসিয়ে রেখেছি।
এদিকে ইচ্ছ মিয়ার ও দেখা নেই বহুদিন।
আজ হঠাত মনের দরজায় শুনি কড়াঘাত। ওমা! এতো ইচ্ছে - আবার ফিরে এসেছে কোত্থেকে জানি! দরজাটা খুললাম একে ঢুকতে দেয়ার জন্য, আর সেই খোলা দরজা দিয়ে দেখি পালিয়ে গেল এলার্জি-ব্লগে ধরে যাওয়া এলার্জিটা! টম এন্ড জেরির দৃশ্যের মতো মনে হল!!
বিদ্যুত মিয়ার নতুন বউ মনে হয় আবার বাপের বাড়ি গেল। বেচারার আর মন টিকে না। খানিক পর পরই তার যাওয়ার তাড়া- এই এলো তো ঘন্টা খানেক না বসেই আবার বিদেয়। না জানি কত্ত পদের খাবার রান্না করে রেখেছেন বেটার শ্বাশুড়ি। সুন্দরী নতুন বউকে রেখে এসেছে তো- বেচারার আর দোষ কি দিব?
এদিকে ইচ্ছাটাও কতোক্ষন থাকে বলা যায়না, আবার কোন দোহাই দিয়ে উড়াল দেয়। বিদ্যুত আর ইচ্ছা, এই দুই কে একসাথে পাওয়া যেন দুরূহ হয়ে গেছে।
আজ সকালে পেলাম...একরকম হঠাতই।
তাই দেরি না করে পিসি খুলে বসে গেলাম।
firefox এর address bar এ blogspot লিখে ctrl+enter দিতেই তো আমি অবাক। চিমটি কাটলাম বেশ কয়েকবার! একি? সব বাংলায় ! আমি কি স্বপ্ন দেখছি? না তো?!!এইতো সব বাংলায়!! শুধু ঐ বড় করে Blogger লিখাটা ছাড়া!!

তিন বছরে এই পেইজটা কত্ত হাজারবার দেখেছি মনে নেই। তবে আজ মনে হলো এত সুন্দর পেইজ কখনো দেখিনি।
আমার ভাষায়, আমার মায়ের ভাষায় ব্লগস্পট!!! ভুলে গেলাম নিউজিল্যান্ডের কাছে প্রায় জিতে যাওয়া ম্যাচটা বাংলার দামাল (?) ছেলেরা হেরে গেছে। এত্ত বড় বিজয় যেন আর কখনও দেখিনি আমি...।
মনের ড্রয়িং রুমে বসিয়ে রাখা ইচ্ছেটাও লাফিয়ে উঠল যেন!! ন্না, আর দেরি নয়, এক্ষুনি লিখতে হবে, এক্ষুনি!!
হেড ফোনে বাজছিল তখন ব্রায়ান এডামসের একটা গান।কয়েকদিন ধরে খুব শুনছিলাম এই গানটা। এতোদিন মনে না হলেও আজ যেন ইংরেজি কথাগুলো হঠাতই খুব বেসুরো হয়ে গেল...
সাথে সাথেই ট্র্যাক চেঞ্জ - ব্লগস্পট বাংলা হতে পারলে আমার হেডফোনে কেন ইংরেজি বাজে???
ওমনি শ্রীকান্ত গেয়ে উঠলঃ
"নাম হারানো কোনো পথের ঠিকানায়..
আজ ঘুম ভাঙ্গাতে কে যে ডাকে ইশারায়
তাই রাতের শেষে রোদ্দুর এসে আমায় নিয়ে যায়......
ফেলে আসা কোনো দিনের নীরবতা
জেগে উঠে আজ অন্য মুখুরতায়..."
শ্রীকান্তের কন্ঠে ভর করে সেই ইচ্ছেটাই যেন কানের ভেতর বলে গেল কথা গুলো......
Wednesday, September 17, 2008
জীবন মানে কি একটি অসম্পূর্ণ জিগস' পাজল?
এত্তো ভাইবোনের আড়ালে তাই বেড়ে উঠাটা দুঃখের চেয়ে আনন্দের বেশি ছিল। খেলার সাথীর যেমন কখনো অভাব হয়নি, তেমনি হয়নি রাংগা চোখেরও...।
দেখতে দেখতে সময় চলে যায়- সময়ের "আপন গতি" যে কখনও স্রোতস্বিনী নদী কিংবা নায়াগ্রা ফলসকেও হার মানায়, তা সময় চলে না গেলে বুঝার উপায় নেই।
সেই অটুট বন্ধনের ছোটবেলা পেরিয়ে ধীরে ধীরে সবাই বড়বেলায় পা দিতে লাগল- আর সেই সাথে ঢিলে হতে লাগল বন্ধনের সুতোটাও।
বড়াপুর বিয়ের পর চলে গেলেন বিদেশ বিভুঁইয়ে। মেজ আপু বিদেশে না গেলেও শ্বশুরালয়ে। বড় ভাইয়া বিয়ের পরও ভাবিকে নিয়ে অনেকদিন কাছে ছিলেন, কিন্তু ক্যারিয়ার গড়তে তিনিও চলে গেছেন দূরে- দেশের ভেতর থাকলেও দেখা হয় কয়েক মাসে। মেঝ ভাইটা টিন এজ না পেরুতেই দেশে দেশে। জীবনে কখনো নাম না শুনা শহর ঘুরে টুরে এখন গিয়ে ঠিকানা গড়েছে যেথায়, সেথায় নাকি নিশীথেও সূর্যের দেখা মেলে।
ছোট ভাইয়াটা বাকি ছিল, তাও চারটি বছর দূরে কোথাও পার করে দিয়ে এসে গত একটি বছর যা ছিল। এইতো দু'দিন আগে, সেও উড়াল দিল আরেক অজানার দেশে।
ফাঁকা হয়ে যাওয়া ঘরটায় তাকিয়ে দেখি কেবল আমিই রইলাম বাকি, ভাগশেষ হয়ে।
বাবার দেখা পাইনি অর্ধেকটা রমজানেই। তিনিও উড়াল দিয়েছিলেন। বাকি অর্ধেকটাতেও কয়টা দিন একসাথে ইফতার করতে পারব জানা নেই। হয়তোবা এরই মধ্যেই উনার পুরো মাসের সবক'টি দিনই কোথাও না কোথাও ইফতারের দাওয়াতের বুকিং দেয়া হয়ে গেছে।
যোগফল বলি আর গুণফল, ফলাফল কেবলই শূণ্য।
...............
ছোটবেলায় একটা জিগস' পাজল ছিল আমাদের। পুরোটার সমাধান করলে হয়ে উঠতো মেঝের অর্ধেক জুড়ে থাকা পুরো বিশ্বের মানচিত্র। একবার সবাই মিলে সমাধান করলাম-অতি কষ্টে। তারপর চীটিং এর আশ্রয় নিয়ে ভাইয়া আর আপুরা মিলে পিসগুলোর নিচে সংখ্যা বসিয়ে না দিলে পাজলটির সমাধান আর কখনওই করা হয়ে উঠতো না।।
এতোদিন পর নিজেকে ঐ জিগস' পাজলের ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য টুকরোর আরেকটি খুচরা টুকরোর মত মনে হচ্ছে...।
শেষ যে কবে সবাই একসাথে হয়েছিলাম, এখন আর মনে পড়ে না। পাঁচ বছর তো হলোই। আবার কবে সবার একসাথে হওয়া হবে-কিংবা এই ইহজগতের ক্ষণিকের পান্থশালায় তা আদৌ আর হয়ে উঠবে কিনা, কেবল ঐ উপরওয়ালাই জানেন।
...............
সতেরশ' পঞ্চাশ বর্গ ফিট জুড়ে এখন কেবল আমি আর মা। যে দেশে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে হাজারের উপর মানুষের বাস, সে দেশে এই সংখ্যাটা বড্ড বেশি বেমানান হয়ে গেল না?
Thursday, September 11, 2008
রমজানঃ মাসটা কি "ফাস্টিং" এর, নাকি "ফীস্টিং" এর ?
রমজান আসলেই চার দিকে একটি পরিবর্তন ঘটে যায়- লক্ষ্য করতে না চাইলেও চোখে যেন আপনা আপনিই ধরা দেয়- তাই এড়িয়ে যাওয়া যায় না-
মানুষের রোজা রাখা ক্লান্তভাব তেমন ভাবে চোখে না পড়লেও চোখে পড়তে বাধ্য হোটেল রেস্তোরাগুলোর অকস্মাত "হিজাব" অবলম্বন আর হিন্দু হোটেলের আধিক্য।
টিভির সংবাদ পাঠিকাদের মাথায় অতি কষ্টে উঠে যাওয়া আঁচলখানির কথা আর নাই বা বললাম।
কিন্তু তারপরও, রোজার সবচেয়ে কমন দৃশ্য কিন্তু এইটা না-বরং, বিকেল হতে না হতেই, ফুটপাতে কিংবা রাস্তা জুড়ে সারিতে সারিতে সাজানো নানা বর্ণের নানা স্বাদের ইফতারির আইটেম। সেই সাথে এসবের দাম, স্বাস্থ্যগুন কিংবা পুষ্টিগুনের তোয়াক্কা না করা ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন।
অবস্থা দেখে বুঝার উপায় নেই, এই একই দেশের জনগণকেই আজ খবরে দেখলাম বাজারের ক্রেতাদের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ করছে, রোজা রেখেও (?) গালিগালাজ কিংবা নাজেহাল করতেও ছাড়ছেনা।
মাঝে মধ্যে মনে হয়, বাংগালীর কোনো পূর্বপুরুষের মাথায় বুঝি কেউ ঢুকিয়ে দিয়ে গিয়েছিল, ছোলা, মুড়ি, পিয়াঁজু, বেগুনি, জিলাপী ছাড়া ইফতারী মহাপাপ! শুধু তাই নয়, সাথে দিনভেদে থাকতে হবে হালিম, ক্ষীর, ফিরনি অথবা অন্য কিছু। মোটকথা সারাদিন যে না খেয়ে থেকেছে, পাড়ার মসজিদের সাইরেন শুনার সাথে সাথেই কড়ায় গন্ডায় তা উসুল করে না নিলে প্রমাণ হয় কি করে?
ফিরে যাই সেই দ্রব্যমুল্যের কাছে। দ্রব্যমূল্য মহাশয়ের রকেটটাতে কে জ্বালানী ভরে দিয়ে উপরের দিকে ঠেলে দিয়েছে তা নিয়ে চলে নানা মুনির নানা মত। চোর টাকে কেউ নাম দিয়েছে সিন্ডিকেট, কেউ বা বলছে আন্তর্জাতিক বাজার- আর চোর কে হাতেনাতে ধরতে বাজারে অভিযান চালাতে বাদ রাখেনি এফবিসিসিআই প্রধান থেকে শুরু করে সরকারও।
এ ওকে দোষ দেয়, আর সে তাকে- খেলা জমে ভালই।
আর আমরা, দর্শকের সারিতে বসে গোগ্রাসে ইফতার গিলতে গিলতে, তাতে হাততালি দেই।
ওদিকে দ্রব্যমূল্য মহাশয় সপ্তাকাশের আরামদায়ক আসন থেকে তাকিয়ে তাকিয়ে মুচকি হাসেন। যত যাই হোক- উনার আসনে উনি সমাসীন- এদের এসব কাদা ছোঁড়াছুঁড়িতে উনার কি আসে যায়?
আমিও উনাকে, অর্থাত সেই দ্রব্যমূল্য মহাশয়কে ঠিক দোষ দেইনা। বেটা চালাক- ঠিকই ধরে ফেলেছে রমজান আসলেই মানুষের চাহিদাও বেড়ে যায়। যত যাই হোক, সারাদিন যে না খেয়ে থাকে- বাকি যে কয়েকঘন্টা ঘন্টা সে খেতে পারে, তাতেই তা উসুল করে না নিলে ভোজনরসিক বাংগালীর কি চলে? তাও আবার প্রায়শঃই এখানে ওখানে ইফতার মাহফিল এর আয়োজন হবে- নানান স্বাদের নানা বর্ণের আইটেম যাতে থাকতে বাধ্য। আবার ঘরে ঘরে গৃহিনীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তো আছেই- এই রমজানেই পাড়ায় পাড়ায় হয়ে যাবে সবার মধ্যে কার গিন্নী সবচেয়ে মজাদার ইফতারী বানাতে পারে তার একটি নীরব জরিপ।
সব মিলিয়ে এ যেন ফাস্টিং এর নয়, ফীস্টিং এর মাস!
এত শত ফীস্টিং এর আয়োজন থাকলে চাহিদা তো বাড়বেই, আর এ কথা তো বাচ্চা ছেলেও জানে, চাহিদা বাড়লে দ্রব্যমূল্য মশাইয়ের রকেটে জ্বালানী ভরবে- আর তিনিও সপ্তাকাশে চড়ে বসবেন।
দ্রব্যমূল্য মহাশয় সপ্তাকাশ থেকে আমাদের ইফতারীর পসরা দেখে না জানি কতটা শান্তি পান।
কিন্তু তিনি হয়তো অত উপর থেকে দেখেন না -
এই আমাদের একই সীমানার ভেতরেই- ২ লাখেরো বেশি মানুষ আজ বন্যায় উদ্বাস্তু- অনেকেই ভিটে বাড়ি সহ যতটুকু সম্বল ছিল, সবই হারিয়েছে চিরতরে।
বুট পিয়াঁজুর ইফতার তো দূরের কথা, একটু বিশুদ্ধ পানিও যেন এদের কাছে কেবলই স্বপ্ন।
দ্রব্যমূল্য মহাশয় হয়তো সপ্তাকাশে উঠেছেন বলে দেখেননা, কিন্তু আমরা-
যারা নামকরা রেস্তোঁরার "মাত্র (??) ৬৫০" টাকার বুফে ইফতারির জন্য ছুটে যাই অফিস ফেলেই,
যারা দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়েও এলাকার বিখ্যাত হালিমটি মিস হয়ে গেল বলে হা-হুতাশ করি,
যারা রোজা রাখা কাজের মেয়েটিকে পুডিংএ চিনি কম দিয়েছে বলে ঝাড়ি দেই,
যারা টেবিল ভর্তি ইফতারি দেখেও মা'র কাছে প্রিয় আইটেম না থাকায় অভিযোগ করি,
...............
আর এভাবে ফীস্টিং এর আড়ালে "ফাস্টিং" যে করছিলাম, তাই ভুলে যাই-
নাহ, চোখে আজকাল একটু কমই দেখি- কি জানি, হয়তোবা রোজায় ধরেছে।
এতো ইফতার খেয়েও আমাদের যদি রোজায় ধরে, দ্রব্যমূল্য মহাশয় কে আর কি দোষ দিব? হয়তো তেনাকেও রোজায় ধরেছে- সপ্তাকাশে উঠে উনি কুম্বকর্ণের ঘুম দিচ্ছেন...।।
Friday, September 5, 2008
আল জাযিরার সাথে আধা দিন ...(৩)
এর পর নেয়া হল সখিনার ইন্টারভিউ। বিশাল এক বোম্ব মাইক বের করে নিচে থেকে ধরে থাকলেন এলেক্স। আর সখিনা ওর বাড়ির সামনে দাড়িয়ে সংক্ষেপে বলতে লাগল আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কারন, গ্রামে বেড়ে উঠা মেয়ে হিসেবে নানা দেশের মানুষের সাথে মিশতে গিয়ে প্রথম দিকে পড়া সমস্যা ও তা সমাধান করার কথা। শেষে দেশের জন্য ও কি করতে চায় ভবিষ্যতে তা জানিয়ে শেষ করল ওর সংক্ষিপ্ত ইন্টারভিউ।
আনষ্ঠানিকতা মোটামুটি শেষ হলেও বাকি রয়ে গেছে আরো কিছু কাজ। এইবার আহমাদ বের হয়ে গেলেন ভিডিও ক্যামেরা আর এলেক্স, ওর স্টিল ক্যামেরা নিয়ে। অঘোষিত বিরতি চলল কিছুক্ষন, যদিও বিরতিহীন ভাবে নানান কিসিমের গ্রামীণ দৃশ্য তুলতে লাগল ওদের ক্যামেরা। মজার কান্ডটা তখন করছিলেন সো। আপন মনে বিড়বড় করে স্ক্রিপ্টটা মুখস্ত করছিলেন উঠোনে হেটে হেটে। এই দৃশ্য দেখে সখিনা আর ওর কাজিনদের দল হাসতে হাসতে লুটোপুটি অবস্থা। এরপর গ্রামের সবচেয়ে সাধারন দৃশ্য গুলো অসাধারন হয়ে ধরা পড়তে লাগল উনার ক্যামেরায়-দূরে দাড়িয়ে থেকেও বুঝতে পারলাম এর মধ্যে ছুটোছুটি করতে থাকা মুরগিটা ছিল প্রধান আকর্ষন।
যাওয়ার বেলায় আরো কিছু ছবি তুলতে লাগলেন উনারা। সো তখন সখিনার বৃদ্ধ দাদার সাথে ছবি তুললেন বেশ আগ্রহ ভরে। হাতে সখিনার মায়ের দেয়া চন্দনাইশের বিখ্যাত পেয়ারা। চুপিসারে লক্ষ করলাম সবার অগোচরে সখিনার দাদার হাতে কিছু টাকা ধরিয়ে দিলেন। সখিনার বাবা উনাকে উর্দু ভাষায় বলে ফেললেন "আমার বাবা পাকিস্তানের খুব ভক্ত, আমরা তো আগে এক দেশ ছিলাম - উনি সে আমলের কথা ভুলেননি"।
সবাইকে সালাম আর "আপকো বহুত শুকরিয়া" জানিয়ে বিদায় নিল বাড়ি থেকে, হাতে কিংবা ব্যাগে তাদের "পেয়ারা" উপহার-একটি করে পেয়ারা সমেত। অল্প কিছুদূর যে পথ হেটে যেতে হবে তার দুই পাশে তখন দর্শকদের সারি। হঠাত দেখি কিসের যেন ছবি তুলতে এলেক্স অন্য পথে পা বাড়াল। পিছু নিল ছেলেপুলেদের দল। আমিও গেলাম। দেখি একটা বিশাল পুকুর। পরে আহমাদ এই পুকুরের কথাই এলেক্সকে বলছিল, "দিদ ইউ তেইক পিকতারয অফ দা স্মল লেইক? ওয়েন আই ওয়েন্ত যেয়ার, এন অল্দ ম্যান ওয়ায তেইকিন বাথ"।
টিভিতে যখন নিউজ দেখেন, নিশ্চয় দেখেছেন রিপোর্টার শেষে কিছু কথা বলে ক্যামেরার সামনে দাড়িয়ে। কখনও বা স্থির দাড়িয়ে থাকে, কিংবা হাটতে থাকে। কখনও শেষ করে দেয় এই দৃশ্য দিয়েই, কখনও পরে আরো কিছু কথা বলে।
এইবার দেখলাম এই দৃশ্যের ই মেকিং। একটা ছোট পথ বেছে নিলেন উনারা। সো হেটে হেটে এই পথ দিয়ে আসবেন আর রিপোর্টটা এভাবেই শেষ করবেন।
খুব সহজ মনে হলেও ব্যাপারটা আসলে যে কত কঠিন নিজ চোখে না দেখলে বুঝতাম না! ক্যামেরা ম্যানের পিছনে তখন দেখি তানভির সাহেব, অনেকটা জড়িয়ে ধরার ভঙ্গিতে।
তারপর পিছন দিকে হেটে আসতে ক্যামেরাম্যান কে পথ দেখিয়ে নিয়ে আসতে লাগলেন, আর এদিকে সো উনার মুখস্ত করা স্ক্রিপ্ট বলতে বলতে সামনে আসতে লাগলেন। একবার উনার স্ক্রিপ্ট ভুলে গেলন, আরেকবার পাশে দাড়িয়ে থাকা কৌতূহলি জনতার মোবাইল বেজে উঠল, আর একবার সব ঠিক ঠাক হলেও আরও একবার নাকি "সেফটি" হিসেবে একটা টেক নিয়ে রাখতে হয়- তাই বেশ সময় নিয়ে চলতে লাগল এই দৃশ্যায়ন।
ওদিকে তখন একটু দূরে দাড়িয়ে এলেক্স তুলতে লাগল একের পর এক ছবি-গ্রামীন বধু, গ্রামীন নারী, আর গ্রামীন পোলাপান দের। ঠিক এমনি নাকি একটি গ্রাম ও দেখেছিল দশ বছর আগে, দক্ষিন আফ্রিকার কোনো এক দেশে (নামটা আগে কখন ও শুনিনি, এখন আর আমার মনে নেই)
"সো রাহমান- আল জাযিরা, চিটাগং" বলে সো যখন শেষ করলেন রিপোর্ট, আনুষ্ঠানিক কাজ তখন শেষ। এরপর রইল অনানুষ্ঠানিক কাজ। কৌতূহলি বাচ্চাদের সবাইকে একত্রিত করে ছবি তুলে আবার তা দেখালেন বাচ্চাদের। সবাই এখানে ওখানে নানা দৃশ্যের সবগুলোর ছবি তুলতে তুলতে আরো করলেন দশ মিনিট।
তারপর বিদেয় এবং রওয়ানা হওয়ার পালা। সবাইকে হাত নাড়িয়ে বিদেয় দিয়ে কিছুদূর আসার পর, আহমাদের সখ জাগল আরও কিছু দৃশ্যায়ন করবে। ভিডিও ক্যামেরা নিয়ে বের হয়ে জানালেন, কিছুক্ষন পর গিয়ে গাড়িতে উঠবেন। চলে গেল আরও দশ মিনিট।
তারপর অবশেষে দারুন এক অভিজ্ঞতার সফরকে বিদায় জানিয়ে রওয়ানা দিলাম চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে। পথে জানতে পারলাম-এই যে এতকিছুর ছবি তোলা হল সারা দিন মিলে, সব মিলিয়ে নাকি রিপোর্টটি হবে মোট দু'মিনিটের!! সামনের সপ্তাহান্তে প্রচারিত হওয়ার কথা-ইমেইলে অথবা এসএমএস করে জানাবে বলল।
ফিরার পথটা মনে হল অনেক তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে গেল! অফিসে যখন আমাদের ওরা পৌছে দিল, তখন বিকেল পাচটা। দারূন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে শেষ করলাম আরেকটি কর্মময় দিন।
........................................................................................................................
বাংলাদেশের দুইটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটিতে ৩ মাসের ইন্টার্নশিপ আর আড়াই মাসের চাকুরির সুবাদে বেশ অনেক ধরনের, অনেক দেশের, অনেক ঢংয়ের, অনেক রংয়ের মানু্ষের সাথে মিশার অভিজ্ঞতাই হয়ে গেল আমার-বাদ নেই এমনকি বর্তমান এবং সাবেক উপদেষ্টা এবং মন্ত্রীও।
কিন্তু আলজাযিরার টিমের সাত্থে কাটিয়ে দেয়া এই দিনের অর্ধেকটা যেন সব অভিজ্ঞতার উপরে আলাদা স্থান জুড়ে থাকবে অনেকদিন-অথবা সারা জীবন।
Tuesday, September 2, 2008
আল জাযিরার সাথে আধা দিন...(২)
বাদ পড়ে গেছে, গ্রামের বাড়িতে পৌছা মাত্রই, উঠোনে শুকোতে দেয়া লাল লাল মরিচ ওদের প্রথম আকর্ষন করে। সেই মরিচ দেখে ওদের মাথায় বুদ্ধি এল, এ দিয়েই সখিনার মা'কে পরিচয় করিয়ে দিবে ওরা। ওহহো, যেই মেয়েটির বাড়িতে বেড়াতে এসেছি, তার নামটাই যে সখিনা, তাই বোধহয় এতোক্ষণ বলে উঠা হয়নি। তো এতোক্ষনে নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, এ হচ্ছে বাংলাদেশের গ্রামের কোন ও এক সখিনার বিশ্বব্যাপী পরিচিত হয়ে উঠার গল্প।
সেই সখিনার সহজ সরল মা কে গিয়ে একেবারে খাটি গ্রামের ভাষায় বুঝাতে গেলাম ওদের পরিকল্পনার কথা। আমার মুখে এমন খাটি আঞ্চলিক ভাষা শুনে যারপরনাই অবাক হওয়া সখিনার সহজ সরল মা সাথে সাথে আরজ করতে লাগল "ইন অইলে ফরে অইব, আগে বোরহা ওয়া খুলন না"(যা হবার তা পরে হবে, আগে বোরখা খুলে বসুন না!)
হাসি চেপে রেখে বসার ঘরে এসে দেখি ততোক্ষনে সো সখিনার বাবার উর্দু জ্ঞানের কথা জেনে গেছেন, এবং বহুদিন পর যেন মাতৃউর্দু ভাষা চর্চা করার সুযোগ পেয়ে বেশ খুশি মনেই কথা জুড়িয়ে দিলেন। পাশে বসে এলেক্স মন দিয়ে শুনছে। আর পাশে তখন জানালায় দাড়িয়ে একগাদা শিশুর দল জীবনের সবচেয়ে আশ্চর্যজনক দৃশ্যের দিকে তাকিয়ে আছে।
পরে সেই কৌতূহলী দর্শকদের ছবি তুলে নিয়েই ক্ষান্ত হয়নি এলেক্স, নিজেও ওদের সাথে দারুন এক পোজ় দিয়ে ছবি তুলতে বসে গেল।
এদিকে বসার ঘরে একজনের ইংরেজি মিশেল আর অন্য জনের বাংলা মিশেল উর্দু মিলে মিশে যখন একাকার, ততোক্ষনে ইন্টারপ্রেটার হিসেবে আবির্ভূত হয়ে দেখি, একজনের "শিক্ষা বিষয়ে আপনার মতামত জানতে আমি আপনার ইন্টারভিউ নিব" টাকে আরেকজন বুঝলেন "কোরিয়া এবং বাংলাদেশের ইম্পোর্ট এক্সপোর্ট এর সম্ভাবনা বিষয়ে আমার মতামত জানতে চাচ্ছেন উনি"!!!! এবার মনে হয় আর হাসিটা চেপে রাখতে পারিনি।
যাক, খাওয়াদাওয়ার পর্বটাকে ততোক্ষনে জোর করে বিদেয় দিয়ে কাজে নেমে গেল ওরা। আহমাদ চলে গেলেন ক্যামেরা বসিয়ে কিভাবে এবং কি কি দৃশ্যায়ন করা যায়, তা দেখতে। শেষে সেই লাল মরিচ গুলোকেই বিশ্বজোড়া বিখ্যাত করে দেয়ার সিদ্ধ্বান্ত নেয়া হল। এর পাশেই বসিয়ে দেয়া হল পাটি বিছিয়ে, পরিবারের সবাইকে গোল করে। অভিনয় করে বেশ মজা পেলেন বুঝা গেল, সখিনার মা-বাবা আর ভাই বোন।ঘোমটার আড়ালে মুখ লুকিয়ে রাখা সখিনার বয়োবৃদ্ধ দাদিকে এক পাশে বসিয়ে দেয়া হলেও উনার নির্ঘাত বিন্দুমাত্র ধারনা নেই ঐ ভিনদেশী লোকগুলো ঐ কাল যন্ত্র দিয়ে উনার পরিবার কে বিশ্বব্যাপী পরিচয় করিয়ে দেয়ার "ষড়যন্ত্র" করতেই এখানে হাজির হয়েছে!!
কৌতূহলী শিশুর দলকে তখন জোর করে বের করে দিয়ে গেট আটকে দেয়া হয়েছিল । কিন্তু তাতে কি আর তাদের কৌতূহলের বিন্দুমাত্র নিবারন হয়? গেটের নিচের ফাক দিয়ে বাচ্চাদের উকি দিয়ে দেখার দৃশ্য ক্যামেরা বন্দী করতে বাদ রাখেননি মিস্টার সো।
এরপর সখিনার মায়ের দৃশ্যায়ন করা হল, উনি মরিচগুলো বিলিয়ে দিচ্ছেন, আর পাশে বসে সখিনার বাবা গল্প করছেন। স্টেজ করা গল্প আর কি হতে পারে? শুনা যাচ্ছিল উনি বলছেন "সখিনা মা, তোয়ার মরিচ্চুনর দাম বারি গেইল গইদে এনা দেহির"(সখিনার মা, তোমার মরিচ গুলোর দাম আরো বেড়ে গেল দেখি)। "মরিচের দাম এমনিতে যথেষ্ট বেড়ে আছে, আর বাড়ার দরকার নেই"দূর থেকে জবাব দিল সখিনা...
আর এই দৃশ্যে ব্যাকড্রপ হিসেবে দারূন ভূমিকা পালন করল গোয়াল ঘর, তার বাসিন্দা একটা গরু, আর গরু মহাশয়ের খাবার সেই খড়ের গাদা!
ঘরের দরজায় দাড়িয়ে সখিনার বৃদ্ধ দাদা দেখতে লাগলেন এই দৃশ্য। নাতিন উনাকে বুঝাল এইসব লোক বেড়াতে এসেছেন এইখানে। "চিনি দি সরবত দে গরবারে"(মেহমান কে চিনি দিয়ে সরবত করে দে)- উনার সহজ সরল আদেশ।
(ছবি যোগ করতে সমস্যা হচ্ছে, তাই এই পোস্টটাকে দুই ভাগে ভাগ করে দেখি ছবি সব দেয়া যায় কিনা)
Monday, September 1, 2008
আল জাযিরার সাথে আধা দিন...
‘মিডিয়ার কাছে আমার একটা প্রশ্ন আছেঃ “মিডিয়ার কাছে “বাংলাদেশ” বলতে ঠিক কি বুঝানো হয়?”’ প্রশ্নটা করছিলাম আল জাযিরার নিউজ প্রেজেন্টার এওয়ার্ড উইনার পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ মুসলিম সোহেল রহমান কে।
নিশ্চয় ভাবছেন সুযোগটাই বা কোথায় পেলাম? হুম, তাই বলতেই আজ অনেক ব্যস্ততার মধ্যেও, রমজানের ঠিক আগের দিন রমজান বিষয়ক পোস্ট না করে এমন একটা পোস্ট লিখতে ব্লগে ঢুকলাম।
ঘটনার শুরু গত সোমবারের অফিসের স্টাফ মিটিংএ, যখন জানানোহল আল জাযিরার প্রতিনিধি আসবে আমাদের ইউনি কভার করতে, আগামী সোমবার। প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেল ওদের জন্য নানা আয়োজনের। অন্যান্য প্রতিবার আমাকে এইখানে কোনো না কোন দায়িত্ব দিয়ে রাখলেও এইবার তেমন কোনো দায়িত্ব ছিল না ভেবে গায়ে হাওয়া লাগাচ্ছিলাম পুরো সপ্তাহ জুড়েই।
আজ যথারীতি চলে আসল আল জাযিরার ৪ জনের একটা টিম। সিনিয়র স্টাফদের ব্রিফিং, এক্সেকিউটিভ ডিরেক্টর আর ডীন মহোদয়া গণ দের ইন্টারভিউ ও নিয়ে ফেলল ওরা, সেই সাথে ক্লাসরুমের কিছু ছবিও।
তারপর হঠাত জানান হল, এতোদিন ধরে ছাত্রীদের দিয়ে যত্ত সব কর্মকান্ড দেখানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, এইসব ওরা তুলতে চায়না, ওদের ইচ্ছে কোন ছাত্রীর গ্রামের বাড়ি ঘুরতে যাবে আর দেখাবে এইখানে ঠিক কত গ্রামীণ পরিবেশের মেয়েরা আসার সুযোগ পেয়েছে।
উড়ে এসে জুড়ে বসানোর মত আমাকে এনে বসিয়ে দেয়া হল ওদের সাথে গাড়িতে, যেতে হবে চন্দনাইশ, যা কিনা প্রায় এক ঘন্টার পথ চট্টগ্রামের মেইন টাউন থেকে।
যেতে যেতেই কথা হচ্ছিল নানা বিষয়ে আল জাযিরার এই টীমের সাথে। জানতে পারলাম ওদের বাংলাদেশে কোন ব্যুরো নেই, এইখানে আসা টীমের একজন, যার মুখে বাংলা কথা শুনে চমকে উঠেছিলাম, সেই জনাব তানভির সাহেবই ওদের পুরো “বাংলাদেশ ব্যুরো”। সেই সাথে ছিল ব্রিটিশ মহিলা এলেক্স, দক্ষিণ এশীয় বিষয়ক খবর দেখাশোনা করা যার মূল দায়িত্ব। ক্যামেরার সামনে থাকার জন্য নিউজ প্রেজেন্টার সোহেল রহমানের কথা তো বললামই, তবে যা বলা হয়নি তা হচ্ছে ব্রিটিশদের কাছে যেহেতু “সোহেল” নামটি নাকি অনেক বড় (??), তাই সো (so!!) নামেই উনার পরিচয়! আর ক্যামেরার পিছনে থাকার জন্য যে বিশাল দেহের লোকটি ঘর্মাক্ত শরীরে বারবার “sweat-tastic” (সোহেল সাহবের ভাষ্যমতে) কাজটি করে যাচ্ছিলেন, সেই আরবীয় চেহারার মানুষটি ইজিপশিয়ান আহমাদ।
শুরু করেছিলাম ওদের কাছে করা প্রশ্নটা দিয়ে, এইবার আসা যাক সেই প্রশ্নের উত্তরে। সো সাথে সাথেই বলে উঠলেন, “কি আর, পাকিস্তান বলতে যেমন “ওরা” দাড়িওয়ালা বন্দুকধারী কোন কাবুলি পরা লোক বোঝে, তেমনি বাংলাদেশ মানে “সাইক্লোন” আর “ফ্লাড”এ ডুবে থাকা একটি অতি দরিদ্র দেশই বুঝে।”
তানভির সাহেব এর মধ্যে শেয়ার করলেন, ওনার এক ফ্রেঞ্চ বন্ধু নাকি একবার প্রশ্ন করেছিলেন “ডু ইউ গাইজ় লিভ অন ট্রিজ?”!! এমন প্রশ্নের কারন জানতে চাইলে বন্ধু বলেছিল, “ইউর কান্ট্রি ইজ অল ওয়াটার”!!!
সো বলতে লাগলেন কিভাবে উনার বিবিসির বন্ধুরা পাকিস্তানে উনাদের বাপের দিনের বিশাল বাড়িতে গিয়ে ভীষন অবাক হয়ে বলেছিল, “এন্ড ইউ কল দিস এ হোম অফ আ মিডল ক্লাস ফেমিলি?”। বলেই যোগ করলেন্ “ব্রিটেনে তো আমরা বলতে গেলে বক্সে থাকি! এই এতটুকুতে ছাদ (মাইক্রোবাসের ছাদে হাত দিয়ে), আর অল্প একটু জায়গা-এইটাই বাড়ি”। “ওয়েস্টার্নদের কাছে আমাদের দেশগুলো সম্পর্কে ধারনা এমনই। এমেরিকার দিকে দেখ, কাটরিনা ওদের কেমন কাপিয়ে দিল! গুস্তাভ দেখে ওরা কেমন ভয় পাচ্ছে! অথচ দেখ, বাংলাদেশের লোকেরা এইসব প্রতি চার মাসেই দেখে!”
“তাহলে মিডিয়া বাংলাদেশের এই দিকটা কেন হাইলাইট করেনা? কিভাবে, কেমন দৃঢ়তার সাথে এই দরিদ্র মানুষগুলো সাইক্লোন, বন্যার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জয়ী হচ্ছে, তা কি কখনো খবরে আসতে পারেনা?” শাহীন ভাইয়ের “একজন প্রেসিডেন্টের ইমেইল এবং আমাদের নেগেটিভ মনোভাব” শীর্ষক আর্টিকেলটি সম্প্রতি পড়েছিলাম বলে ঐখান থেকে আইডিয়া ধার করে প্রশ্নটি করেই ফেললাম।
“দেখ, ভাল জিনিস কখনই সংবাদ হয়না, কেউ হ্যাপি নিউজ কখনো প্রচার করেনা, এইটাই নিয়ম” -ওদের মন খারাপ করা জবাব।
এলেক্স তো বলেই উঠল, “’নিউজ’ শব্দটা বাই ডেফিনিশনই এমন, কেবল নেগেটিভ কিছুই নিউজ হওয়ার দাবী রাখে”।
নিউজ নিয়েই যাদের চব্বিশ ঘন্টা উঠা বসা, তাদের জবাব মেনে নেয়া ছাড়া আর কোনো উপায় না দেখে কি আর করা ভাব নিয়ে জানালার বাইরে মন দিলাম।
দুদিকের সবুজ ধানক্ষেত দেখতে দেখতে বিবর্ণ কাতারে থেকে অনেকদিন সবুজ না দেখা এই লোকগুলো দারুন উপভোগ করতে লাগল এই যাত্রা। এলেক্সের ক্যামেরা তখনও অক্লান্ত ভাবে ছবি তুলতেই আছে..., আর এদিকে কর্ণফুলী পেরিয়ে তখন গাড়ি ছুটে চলেছে চন্দনাইশের দিকে।
চন্দনাইশের বিদ্যানগরের পরেই রৌশনহাট, যেখানে আমাদের গন্তব্যস্থল। গ্রামে পৌছার একটু আগেই খেয়াল করলাম, এলেক্স ব্যাগ থেকে উড়না বের করে জড়িয়ে নিয়েছে।
পৌছুতে না পৌছুতেই, গ্রামের ছেলেপুলেরা ততোক্ষনে ভীড় করে ফেলেছে বাড়িটি। খবর পেয়ে আগেই ওর মা বাবা হাজির তো হয়েছেই, সেই সাথে নানা ফলমূল, সরবতের আয়োজন ও করে রেখেছে.।
অনেকবার না খেতে চেয়ে কোনো লাভ হলনা।
“এই সব তোমাদের মানতেই হবে, দেয়ার ইজ নো ওয়ে ইউ ক্যান স্যায় নো- দিস ইজ আউয়ার লোকাল বাংলাদেশি ট্র্যাডিশন” জানিয়ে দিলেন তানভির সাহেব।
.........
(আজকেই শেষ করার ইচ্ছে ছিল, শেষ করতে পারছিনা বলে দুঃখিত। বাকি অংশ কাল ইনশাআল্লাহ ...। রমজানের শুভেচ্ছা সবাইকে। এখনই না ঘুমালে কাল হয় সেহরি মিস করব, অথবা অফিসে বসে ঘুমাব)
Sunday, August 17, 2008
মাই ডিয়ার ফ্রেন্ড এনি
এনির সাথে দেখা হয়েছিল পরেরদিন অফিসে গিয়ে। খুব সুন্দর একটা টোল পড়া হাসি দিয়ে ধবধবে সাদা হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বরণ করে নিল চাইনিজ চেহারার মেয়েটি। জানতে পারলাম ওর জন্ম তাইওয়ানে হলেও ছোট বেলায় এমেরিকায় মাইগ্রেট করে এখন ও পুরোদস্তুর এমেরিকান। আপাততঃ মাসখানেকের জন্য বোস্টন অফিস থেকে ওকে পাঠানো হয়েছে চিটাগং অফিসটা সেটল করা পর্যন্ত থাকার জন্য।
তখনকার ছোট্ট অফিসটায় জুনিয়র সিনিয়র বস সাবর্ডিনেট সবাই মিলে একটা টেবিলের চারপাশে বসে যার যার ল্যাপটপে কাজ করার এক অদ্ভুত সিস্টেমে গিয়ে নিজেকে আবিষ্কার করলাম।প্রতিদিনই মিটিং হতো গত কর্ম দিবসের নানা আপডেট নিয়ে, আর আমার কাজটা ছিল মিটংএ বসে মিনিট টাইপ করা। এনি ছিল তখনো আমার অলিখিত সুপারভাইজার। ওর কাছ থেকেই নানান ধরনের কাজের এসাইনমেন্ট পেতাম আর কাজ শেষে রিপোর্টও করতাম ওকেই।
বস বস শুনালেও ২৫/২৬ বছরের এই প্রচন্ড কাজপাগল মেয়েটি (মহিলা বললে ভুল হবে) কখনোই বস মনে হয়নি। সদা হাস্যোজ্জল এনির স্বভাবই ছিল গম্ভীর মুহুর্ত গুলো তে ওর বিখ্যাত অট্টহাসি কিংবা একটা রসাত্মক কমেন্ট ঢুকিয়ে দিয়ে হাল্কা করে তোলা।
কাজের কারনে ওর সাথে দীর্ঘ সময় কাটাতে হতো বলেই, কিংবা বয়সের ব্যবধানের স্বল্পতার কারনে হয়তোবা, ঘনিষ্টতা আমাদের দিন দিন বাড়তে লাগল। আমাকে নিয়ে ওর ছিল যত্ত কৌতুহল, বিশেষ করে আমার ঐ হিজাব নিয়ে।"এটা কি অবশ্যই পরতে হয়?, হিজাবের উদ্দেশ্য কি?, বোরকা কি কালই হতে হবে-অন্য কোন রঙ্গের হলে সমস্যা হবে, হাত কেন ঢাকতে হবে, হাতের মধ্যে এমন আকর্ষনের কি আছে?, বিয়ের জন্য কনে দেখতে গেলে কনে কি হিজাব পরবে"......ইত্যাদি হেন কোন প্রশ্ন ছিল না যা ও করত না। এছাড়া ওর আরেক আগ্রহের বিষয় বস্তু ছিল বাংলাদেশের বিয়ে। এরেঞ্জড মেরেজ নিয়ে ওর প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মনে হল এই বিষয়ে আমার পি এইচ ডি টা এই ফাকে হয়ে গেল।
প্রচন্ড কৌতূহল ছাড়া ওর আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল মানুষকে ভালবাসা। পুরো অর্গানাইজেশনের সবচে জনপ্রিয় কে এই প্রশ্নের উত্তরে সবাই এক বাক্যে নির্দ্বিধায় বলে দিবে এনির নাম। এ প্রসঙগে পরে আসছি...
আর ওর হাস্যকর সব কান্ড কারখানার নমুনা না দিলে ওর সম্পর্কে এই লেখাটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। একদিন ওকে আরেক কলিগ আমন্ত্রন জানাল ঊনার গ্রামে বৃক্ষরোপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার। এনি সাথে সাথে রাজি হয়ে গেল! ওকে ভয় লাগিয়ে দিতে বললাম আমাদের দেশে অতিথি হিসেবে কোন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলে অবশ্যই বক্ত্বতা দিতে হয়। সত্যি ভেবে শেষে ও রাজি হল। আর যেহেতু গ্রামের অনুষ্ঠান, তাই বললাম, ওকে বাংলায় বক্তৃতা দিতে হবে- এতেও দেখি ও রাজি হয়ে গেল!
শেষে আমাদের কয়েকজনের সাহায্যে সে ঠিকই বাংলায় একপ্রৃষ্ঠা বক্তব্য লিখে মুখস্থ করে নিল। "আমাড় প্রিয় ভাই এইবং বোওনেড়া" এর পর ওর মুখ থেকে প্রায়ই শোনা যেত।
হাস্যকর কান্ড কারখানার সবচ্যে মজার অংশে আসি এইবার। একদিন ওর সখ জাগল, বোরকা পরবে! আমাকে বলল ওর জন্য বোরকা নিয়ে যেতে। আমি জানতাম এইটা ও কৌতুক করে বলছে না, সত্যিই সে পরবে।
পরের অফিস ডেতে সত্যি নিয়ে গেলাম! এর কিছুদিন পরই আমাদের একটা সেমিনার ছিল। সেদিন আমাদের যেতে বলা হল সেমিনারস্থল, অর্থাত চট্টগ্রামের সবচেয়ে নামকরা হোটেলের একটা কনফারেন্স হল গিয়ে দেখে আসার জন্য। আর এনির সখ চাপল, ঐখানে যাওয়ার সময়ই সে বোরকা পরবে!
বোরকা পরে যখন ও নামল, কেউ কেউ ভাবল আমার বোন, কেউ ভাবল কোন ভিসিটর! আর যখন ওর মুখ থেকে কথা বেরুল, তখন সবার সেই কি যে বিস্ময় আর হাসি! কেউ হাসছে, কেউ অবাক হচ্ছে, আর রিসিপশন এরিয়ার চারপাশের সবাই জটলা পাকিয়ে দেখতে লাগল ওকে। এক মুসলিম কলিগ বলেই উঠল, "আমরা মুসলিম হয়েও কখনো সখ করেও বোরকা পরিনা, আর ও!"
আরো মজার কান্ড হল যখন আমরা গন্তব্যস্থলে পৌছালাম। এনির বাচ্চা মার্কা কান্ড কারখানা, আমার পাশে বসে আমার সব আচরন নকল করা, আর ঐ বোরকার অন্তরালে চুপচাপ বসে থাকায়, হোটেলের কেউই বুঝতে পারেনি ওর ভূমিকা আসলে কি। শেষে যখন ওর ভীষন ডিটেইল অরিয়েন্টেড প্রশ্নের পালা শুরু হল, বুঝা গেল ওরা ভীষন চমকে উঠেছে।
এইতো সেদিন বন্ধু দিবস গেল, ও শিখে নিল বাংলায় কিভাবে শুভেচ্ছা জানাতে হবে। আমাকে আগ বাড়িয়েই বলল, দাড়াও আমি বাংলায় বলি- " শুভোও বুনঢো ডিবওশ"!
একদিন ওকে দাওয়াত দিলাম আমার বাসায়। আম্মুর রান্নার ভীষন ভক্ত বনে গেল ও! আর বাসার সবার মাথায় ওরনা জড়ানো দেখে ও মাথায় ওরনাটা জড়িয়ে নিল। যতোক্ষন ছিল, ওরনাটা মাথায়ই ছিল।
লেখাটা যখন শুরু করেছিলাম, তখনো এনি দেশে ছিল- চলে যাবে কিছুদিনের মধ্যে জানতাম- তবে ওর ফ্লাইট তখনো কনফার্ম হয়নি। গত বৃহস্পতিবার ও চলে গেল। যাওয়ার আগে দেখলাম ওর জন্য ছাত্রীদের কি ভীষন দরদ (ও বা আমরা কেউই ছাত্রীদের পড়াইনা)। ওকে সবাই এত্ত ভালবাসে না দেখলে বুঝার উপায় নেই।সব্বার এত্ত এত্ত গিফট পেয়েছে ও, কোনটা কে দিয়েছে সেটাই মনে করতে পারছেনা! যাওয়ার দিন দেখলাম সবাই একটু বিদায় বলার জন্য, একটা ছবি তোলার জন্য কিভাবে রীতিমত লাইন ধরেছে! একজন ছাত্রী এল, একটা মাথার ক্লিপ দেয়ার জন্য। এনি বলল, "তুমি আমাকে এত্ত কিছু দিয়েছ, আবার কি দিতে চাও?" মেয়েটি বলল- "এটা নতুন কিছু না, এইটা আমার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস"
এমন ভাবে সবার ভালবাসা আদায় করে নিতে পারার অসম্ভব সুন্দর গুনটি, আফসোস, আজকে কেবল "ওদেরই" একচেটিয়া দখলে চলে গেছে। আমরা যে এখনও ব্যস্ত, এ ওর দোষ খুজতে, পিছন থেকে সমালোচনা করতে আর নিজের নাক কেটে হলেও পরের যাত্রা ভাংতে......
সুপার পাওয়ার হওয়া কি এ জন্যই কেবল "তাদের" পক্ষেই সম্ভব?
Saturday, August 2, 2008
চিঠি
এখন বুঝি ভুলে যেতে বসেছি চিঠি লিখার ভাষা।
প্রথম চিঠি কবে লিখেছিলাম? মনে পড়ে চার বছর বয়সে মা-বাবার সাথে যখন পাড়ি জমিয়েছিলাম , সেই দূর অজানার দেশে, তখন থেকেই আমার চিঠি লিখার শুরু। "আলিফ বা" আর এবিসিডি তখন শেখা হয়ে গেলেও বাংলা মায়ের বর্ণমালার সাথে তখনও কেবল পরিচয় হবে, হচ্ছে। সখ্যতা হয় আরো পরে- বাবা যখন পার্মানেন্ট ইঙ্কে একটা ঝুলন্ত বোর্ডের গায়ে বর্ণমালা লিখে ঝুলিয়ে দিলেন চোখের সামনে- আর মা যখন দেশ থেকে নিয়ে যাওয়া বাল্য শিক্ষা ধরিয়ে দিলেন হাতে-তারপর থেকে।
দেখতাম, কিছুদিন পরপর ঘটা করে চিঠি লিখার ধুম পড়ে যেত। বাসার মেইল বক্সে যেদিন দেশ থেকে দাদি, ফুপি, কিংবা চাচা-চাচিদের চিঠি জমা পড়ত, সেদিন হতো আমাদের ঈদের দিন। একটি খামে থাকত কমপক্ষে চার পাচেক চিঠি, বাড়ির সব্বাআর খবর একটু হলেও থাকত সেখানে।
তার পরদিন থেকে শুরু হতো উত্তর লিখার পালা। সবাই মিলে খাতা কলম নিয়ে বসে পড়তাম। ভাঙ্গা ভাঙ্গা অক্ষরে বাংলায় একটা বাক্য লিখতেই মা-কে শতবার বিরক্ত করতে হতো।
মনে আছে- মুরব্বি হোক আর সই ( তখনো আমার ছোট্ট কেউ ছিলনা, যাকে চিঠি লিখা যায়)-সবাইকে সম্বোধন করতাম "স্নেহের"- কারন, তালব্য শ'এ র'ফলা আর দ এর সাথে ধ যোগ করে "শ্রদ্ধেয়" লিখতে আমার বড্ড বেগ পেতে হতো!
সবচে' মজার অংশ ছিল, চিঠির পছনে মা আমাদের ভাই বোনদের হাত বসিয়ে হাতের চারপাশে বর্ডার একে দিতেন- কারন, ফুফুরা জানতে চায়- উনাদের আদরের ভাতিজি ভাতিজারা কত্ত বড় হয়েছে! হাতের ছাপ দেখে নাকি উনারা হাত ভেবে কাছে টেনে নিয়ে আদর করবেন!
কত্ত আবেগ মাখা ছিল সেই চিঠিগুলো!! এখন ভাবতেই মনে হয় রূপকথা!
আর সবচে' মজার ছিল আমার আর আমার প্রিয়তমা সইয়ের চিঠি গুলো। ও লিখত কোন ক্লাসে উঠেছে, কবে বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হলো- কততম হয়েছে (নিশ্চয় প্রথম বা দ্বিতীয়) । তারপর লিখত "আর যদি পত্রের কোথাও ভূল হয়ে থাকে তো ভূল আর শুদ্ধটা লিখে দিবে" (তখনো আমরা জানের জান পরানের পরান দোস্ত হলেও অতি ভদ্রতার কারনে তুই তোকারি বলতে জানতাম না)। বলাই বাহুল্য - আমার ভাঙ্গা ভাঙ্গা বাংলায় লেখা পত্রের ভুল আর ভুলের পাশে শুদ্ধ শব্দের বেশ লম্বা লিস্টি ওর পত্রের নিচে ছকাকারে দেয়া আছে।
আমার অল্প স্বল্প বাংলা জ্ঞান দিয়ে তখনো ওর মতো এমন ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্টের ভুল ধরার মতো দুঃসাহস হয়ে উঠেনি, তাই স্বরণাপন্ন হলাম গুরুজী আম্মাজানের। আম্মু বললেন, ওর পত্রে নাকি কেবল একটাই ভুল, আর সেই ভুল হচ্ছে স্বয়ং "ভূল" শব্দটিই!!
খুব সম্ভবতঃ তারপর থেকে, অবধারিতভাবেই ওর পত্রের নিচে থাকত-"ভুল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে"- এই ভুলে কি হ্রস্ব উকার, নাকি দীর্ঘ ঊকার থাকতা এখন আর মনে পড়ে না।
সইয়ের সাথে আবেগ মাখা ভাষায় চিঠি লিখার পর্ব তখনো শুরু হয়নি- এখনকার পিচ্চিদের মতো আমরা অত কিছু জানতাম না তো! এই পর্বটা শুরু হলো আরো পরে, যখন আমরা দেশে চলে এলাম, আর তার পরপরি সই ওর পরিবারের সাথে আরেক অজানার দেশে পাড়ি জমাল।
আমাদের নিয়তিটাই এমন, খুব বেশিদিন আমাদের একি দেশে, একি শহরে থাকা হয়নি কখনো- আর কখনো হবেওনা হয়তো! তাই চিঠিই ছিল বন্ধুত্বের ভেলাটাকে ভাসিয়ে রাখার একমাত্র ভরসা।
ও যাওয়ার আগে আমরা এক গোপন কোড ভাষা রপ্ত করে নিলাম, আমাদের দুই সখির চিঠির যদি আর কোনো পাঠক হয় তো (হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক ছিল তখন) আমাদের গোপন কথা গুলি যেন অন্তরালে থেকে যায়, তাই!
তারপর একদিন বিশেষ ভাবে আমার নামে চিঠি আসল! আমার যে কি আনন্দ! ওর কি অবস্থা, বিদেশে ওর কেমন লাগছে, পড়াশোনার কি অবস্থা সব জানিয়ে শেষে কোড ভাষায়ও দু-এক বাক্য লিখতে ভুললনা।
এখনো সযত্নে রাখা আছে সেই বিখ্যাত চিঠি!
তারপর থেকে আমাদের চিঠি আদান প্রদান শুরু হলো পুরোদমে- যার পৃষ্ঠা সংখ্যা, দৈর্ঘ্য, প্রস্থ্য- কোনো কিছুরি ইয়ত্তা নেই। হেন কোনো বিষয় ছিলনা, যা বাদ পরত! বড় আপুরা আমাদের চিঠির সাইজ দেখে ক্ষেপাতেন- "এটা কি রচনা, নাকি থিসিস?!"
৩/৪ বছর কেটে গেল এভাবে- কারো বার্থডেতেই কেউ কার্ড পাঠাতে ভুল করতাম না- তাও সে কী রোমান্টিক কবিতা দিয়ে ঠাসা!
মাঝে মাঝে এখানকার পোস্ট অফিসে আমার চিঠিগুলো খোয়া যেত! ও একবার দেশে এসে জানাল, আমাকে নাকি ২২ পৃষ্ঠার একটা চিঠি লিখেছিল- আর আমি তা পাইনি!!!
তারপর একদিন, ২০০২ সালে, বাসায় চলে এলো নেট কানেকশন। ইমেইল আর মেসেঞ্জারও এল অবধারিতভাবে।
দিনে যে কয়বার, কয় ঘন্টা ধরে চ্যাট করতাম, তার কি আর হিসেব আছে?! তারপরও মেইল করা হত প্রায়শঃই! সেই সুইট সিক্সটিনে সইয়ের সাথে কত কথারই না ফুলঝুরি উড়াতাম কীবোর্ডে দুহাত রেখে!
আস্তে আস্তে মেসেঞ্জারের কারণে ইমেইলর সংখ্যাও কমে গেল। তেমন একটা আর মেইল করা হয়ে উঠত না। বার্থডে গুলোতেও কেবল একটা ঈ-কার্ড- যার মেয়াদ ৩০ দিনের বেশি না!
তার উপর প্রযুক্তি যখন আরো দয়া পরবশ হয়ে হাতে মুঠোফোন ধরিয়ে দিল, তখন তো প্রতিটা দিন অন্ততঃ কয়েকবার এসএমএস করতে করতে প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম চিঠি নামক মান্ধাতার আমলের ধীরগতির যোগাযোগ মাধ্যমটাকে।
আর তারপর, কর্ণফূলীর গা বেয়ে অনেক পানি বয়ে গেছে...।
সেই প্রিয়তমা সই, তার প্রিয়তম এর হাত ধরে এক অজানার দেশ থেকে আরেক অজানার দেশে পাড়ি জমিয়েছে। সংসারের ব্যস্ততায় আগের মত এসএমএস করা হয়না, ইমেইল তো দূরে থাক। ৬ ঘন্টার ব্যবধানে মেসেঞ্জারেও দেখা হয় কদাচিত। তবে খবরাখবর রাখা হয়, কখন কোন দেশে কি করছে, তা জানা যায়। যেমন জানা আছে, সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই সে আরেক অজানার দেশে উড়াল দেবে।
আমি পড়ে রইলাম আগের ঠিকানায়। মাতৃভূমির শিকড় আকড়ে ধরে আছি বলেই হয়তো- বারবার মনে পড়ে যায় সেই ছোট্টবেলার কথা- সেই আবেগঘন ভাষার চিঠিগুলোর কথা, হাজারটা ইমেইল এসে ইনবক্স ভর্তি হয়ে এলেও সেই আবেদন কি আর আছে এতে?
কোথায় জানি পড়েছিলাম, মানবদেহে স্নায়ু আর হরমোনের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে ইমেইল আর চিঠির মতো। স্নায়ুর মাধ্যমে বার্তা যেমন খুব দ্রুতগতিতে পৌছে যায়, কিন্তু এর প্রয়োগ হয় ক্ষণস্থায়ী,ইমেইলের মাধ্যেমে পাঠানো বার্তা খুব দ্রুতগতিতে পৌছে গেলেও কিন্তু এর আবেদন ঠিকই ক্ষণস্থায়ী। আর হরমোন যেমন কাজ করে খুব ধীরগতিতে, কিন্তু এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি, চিঠির ব্যাপারটিও তাই।
আজ অনেকদিন পর সেই আবেগঘন চিঠির কথা মনে পড়ে- একটি চিঠি লিখে উত্তরের জন্য সেই প্রতীক্ষার কথা মনে পড়ে- আর মনে পড়ে হাতে চিঠি পেয়ে সেই কী যে আনন্দে দুলে উঠত আমার কিশোরী মন!
এখন-প্রতিদিনই চ্যাট হয়, খোজ খবর রাখা হয়, ভাল মন্দ আলাপ হয় ঠিক, কিন্তু আগের সেই প্রতীক্ষা, সেই আনন্দ, সেই আবেগ- সব বুঝি হাওয়ায় উবে গেল!
প্রশ্ন জাগে, প্রযুক্তি কি দুপ্রান্তের দুই বন্ধুকে কাছে এনেছে, নাকি বরং সেই আজন্মকাল থেকে চলে আসা হৃদয়ের বন্ধনটাকে ছিন্নই করে ফেলেছে?
Friday, August 1, 2008
একটু এপ্রিসিয়েশন এবং...
হায়ার এন্ড ফায়ার কেবল একটি ঈমেইলের ব্যাপার। জলজ্যান্ত প্রমাণ দেখলাম জয়েন করার দু সপ্তাহের মাথায়, আমাদের সিনিয়র মোস্ট স্টাফকে ঢাকার ক্ষুদ্র অফিসে ট্রান্সফার করার মত অবিশ্বাস্য ঘটনা অবলোকন করে।
অফিসটাও যদিও চট্টগ্রামে, বোস্টনের হেড অফিস থেকেই সব নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তাই এখানকার পরিবেশটা হাইব্রিড-এমেরিকান আর বাংগালির মিশেল। বাংগালির স্বভাবজাত পলিটিক্স আর গ্রুপিং ও দেখলাম এ কয়েকদিনেই শুরু হয়েছে (এখানকার অফিসটা ফুল সুয়িং এ চালু হয়েছে কেবল মার্চ থেকে)। আর এদিকে এমেরিকানদের "জব টাইটেল নয়, তুমি কি কাজ কর সেইটাই ইম্পরট্যান্ট" টাইপের মনোভাবও ভালভাবে ঢুকিয়ে দেয়া হয়।
তাই তিন মাসের ইন্টার্নশিপ আর দেড় মাসের চাকুরির মাথায় আমার অনেকধরনের অভিজ্ঞতাই হয়ে গেছে। ইন্টার্ন হিসেবে "যা করার জন্য কেউ নাই" তা সবই করতে হয়েছে, আর এখন যদিও আমার ডেসিগনেশনটা তেমন গালভারি কিছু না, দায়িত্ব চাপায় দেয়ার সময় ভার বইবার শক্তি যাচাই করে না।
এর মধ্যে সময় বেসময়ে অফিস করে শরীরের যাচ্ছেতাই অবস্থা হলেও, একটাই প্লাস পয়েন্টঃ প্রতিনিয়তঃই শিখা হচ্ছে- নতুন কিছ। আর সবচেয়ে বেশি শেখা হচ্ছে পার্থক্যটা, আমাদের আর "ওদের" মধ্যে।
এ কয়েকদিনের অভিজ্ঞতায় একটু হলেও বুঝতে পারলাম, কেন "ওরা" এতো উন্নত, কেন "ওরা" সুপার পাওয়ার হয়ে বিশ্ব চালাতে পারছে।
আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতায় সাহস করে বলতে চাই, "ওদের" আর আমাদের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে দুইটা শব্দ- "থ্যাঙ্ক ইউ"।
একটা থ্যাঙ্ক ইউ দিয়ে ওরা হাজারটা কাজ করিয়ে নিতে পারে- কেবল একটা এপ্রিসিয়েশন দিয়ে সব পরিশ্রম ওরা ভুলিয়ে দিতে পারে...।
এমেরিকান এনভাইরন্মেন্টের সাথে যারা পরিচিত তারা নিশ্চয় স্বীকার করবেন- "ইউ হ্যাভ ডান আ গ্রেট জব, আই রিয়েলি এপ্রিশিয়েট দিস" ওদের সবচে' কমন ফ্রেস।
এই এতটুকুতেই, গত কয়েক সপ্তাহের নির্ঘুম রাত, হাড়ভাঙ্গা খাটুনি, অবহেলিত শরীর- সবকিছুর যাতনা ভুলে যাওয়া যায়।
এই দু সপ্তাহ আগের কথা। আমাকে একটা বড় এসাইননেমন্ট দেয়া হল। প্রায় ১০ দিন এই নিয়ে আমার নির্ঘুম রাত, টেনশনে নাওয়া খাওয়া ভুলে যাওয়া, বেহিসেব খাটুনি। আর তারপর... একদিন এর সফল পরিসমাপ্তি হল।
যা ভাবতেও পারিনি তাই পেয়ে আকাশ থেকে পড়লাম- স্বয়ং সিইওর ধন্যবাদ মেইল - বোস্টন অফিস থেকে! তার উপর মেইলটা পুরো অর্গানাইজেশনের সবাইকে সিসি করা! মেইলের এমন ভাষা, শুনে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড কমেন্ট করে বসল- "ইজ হি ম্যারিড?"
একবার ভাবুন তো, এমন স্পেশালাইজড এপ্রিসিয়েশন মেইল পেয়ে, সবচেয়ে জুনিয়র স্টাফের অনুভূতিটা কেমন হবে! ।
বুঝতে পারছিলাম, এর মধ্যে কিছু আছে......।
এর সাথে সাথেই আল্টিমেট কনসিকুয়েন্স হিসেবে আসল এর পরের এসাইনমেন্ট। আপাততঃ ঐটা নিয়ে আরও দু সপ্তাহ দৌড়ের উপর থাকতে হবে।
এইটা শেষ হলে আরো বড় কাজ আসবে...ইংগিত অলরেডি দেয়া আছে।
আর এভাবেই পাচ আর দুই করে করে সপ্তাহের দিন গুলো সব পার করে দিচ্ছি...আর হাড়ভাংগা পরিশ্রম দিয়ে এমেরিকানদের এপ্রিসিয়েশন কিনে নিচ্ছি...।
Friday, July 25, 2008
এবং নতুনতম পুরনো পোস্ট- "ক্ষমা করো, মা!"
কতোদিন?
সেই পিচ্চিকালে মনে আছে তুমি কখনও আমাদের ছেড়ে কোথাও যেতেনা। একদিন বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখেছিলাম, তুমি আমায় ফেলে কোথায় জানি চলে যাচ্ছ। এখনও মনে আছে, অভিযোগ করে বিশাল জোরে কান্না জুড়ে দিয়েছিলাম "এ কেমন মা?!"
এখনও হাসির পাত্রী হতে হয় সেই আঠার ঊনিশ বছর আগের কথায়!
এরপর একদিন তুমি ঘরে রইলে, আমিই বের হতে শুরু করলাম। যেই লাল জামা পরে কেজি স্কুলে যেতাম, ওটার কথা নিশ্চয় তোমার এখনও মনে আছে, না মা? পিছন থেকে দেখতে ঠিক প্রজাপতির মতো লাগত। সেই থেকে শুরু, আমার প্রজাপতির মত উড়াউড়ি।
এরপর স্কুলে যেতে যেতে একসময় কলেজ। ভোর বেলা, সকাল, দুপুর, কিংবা বিকেল, দশটা কিংবা বারটা, চারটা কি সাতটা, যে কোনও সময়, তোমার হাতের রান্না সর্বদা প্রস্তুত। আমি খেয়েই কেবল প্রজাপতির মতো উড়াল দিয়েছি। আর তুমি, দরজায় দাড়িয়ে বিদায় দিয়েই গেলে কেবল।
এভাবেই কখন ইউনি লাইফ শেষ হয়ে গেল, বুঝে উঠতে পারিনি। পড়া আর শোনা, এই দুই নিয়ে ব্যস্ত থাকতে থাকতে খেয়ালই করা হয়নি, তোমার সাদা ধবধবে চামড়া আস্তে আস্তে কুচকে যাচ্ছে। হাটুর ব্যথাটা এতটুকু পরিশ্রমেই বেড়ে যায়।
আমি তখনও প্রজাপতি। কেবল বাইরেই উড়াউড়ি।
তুমি ভেবেছিলে এইবার আমার পিচ্চি সোনামনিটা একটু জিরোবে, না?
একুশ শতকে কি আর তা হয়, মা? পড়ালেখা শেষ, এবার সিভি লেখ, ভাল জব খুঁজ, এপ্লাই কর, ইন্টারভিউ ফেস কর। মায়ের আঁচল জড়িয়ে বসে থাকার আর সময় কই, মা??
তোমার মেয়ের কপাল কত "ভাল", জান, মা? বেকার বসে থাকতে হলো না একটা সপ্তাহ ও। সাথেই সাথেই জব। জান, তুমি কেমন ভাগ্যবতী মা?
তারপর একদিন তোমার প্রজাপতি মেয়েটি আবার উড়াল দিল। সারাদিন তার অফিস, ফোনেও আর কথা বলার সময় নেই। ঘর গেরস্থালি দূরে থাক, নিজের ঘরের জন্জাল পরিষ্কারেরও সময় নেই।
আদরের সবার ছোট্ট মেয়েটি, এক সপ্তাহেই কেমন পর হয়ে গেলো, না?
কি করব বলো মা? যান্ত্রিক এই যুগটাতে, মলিন হয়ে যাওয়া তোমার মুখের হাসিটি দেখারও আর সময় নেই!! তোমার আঁচলের সোঁদা গন্ধ নিতে, কিংবা তোমার কুচকে যাওয়া হাতটা ধরে একটু নির্ভরতা পেতে, আর সময় হয়ে উঠেনা।
তড়িঘড়ি করে বের হয়ে যাওয়ার সময় আর পিছন ফিরে তাকানো হয়না। তুমিও কি নীরব কান্নায় অভিযোগ তুলে বলে উঠো: "এ কেমন মেয়ে?"
ক্ষমা করো আমায়, এই পোড়া মুখে সেই প্রশ্নের জবাব দেবার সাহস নেই।
ক্ষমা করো, মা। তোমার সৌভাগ্যবতী মেয়েকে তুমি তোমার আপন মহিমায় ক্ষমা করে দিও।
___________________________________________________________________
আমার সবচেয়ে সাম্প্রতিক পোস্ট-
প্রকাশকাল-২০ শে জুন, ২০০৮ সকাল ১১:২৫
পুরনো পোস্ট ২- স্বার্থপরের পদাবলী
১৫ তারিখ রাত
...............
ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস শুনেছি
নয় নং মহা বিপদ সংকেত
পুন: পুন:বার উচ্চারিত হচ্ছে চতুর্দিকে
জলোচ্ছ্বাস ও হতে পারে
দশ কিংবা পনের ফুট উঁচু
সুরক্ষিত দুর্গে আমার বাস-
পাহাড়ের পাদদেশে
সী লেভেলের অনেক উঁচুতে
সারা শহর যখন সেদিন তলিয়ে গিয়েছিল
সেদিনও আমাদের এই দুর্গ সদৃশ দালানে- গেটতক পানি আসতে পারেনি
যাক সে কথা,
আজ ভাবছি, কি আর হবে এমন?
মোটা পুরু কাঁচের জানালা বন্ধ করে দিলাম
থাই এলুমিনিয়ামের নিশ্ছিদ্র বেষ্টনী
শীতের কাঁপুনি ধরিয়ে দেয়া হাওয়া নেই
তবু সুরক্ষার জন্য গায়ে কাঁথা জড়াই
বিদেশী কম্বলও রাখা পায়ের কাছে-
পাছে রাতে শীত বেড়ে যায়
নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিলাম রাত
হুশ হাশ শব্দে মাঝে মাঝে ঘুমে ছেদ পড়েনি তা নয়
আবার কাত ফিরে দ'চোখ বুজে স্বপ্নে ডুবি
এই তো আমি- এক নিঠুর স্বার্থপরের প্রতিচ্ছবি
পরদিন সকাল
...............
ঘুম ভাঙে প্রতিটি সকালের মতোই
টিভিতে খবর দেখা নেই-
রাতে কি হলো, কতো মরল-জানার তাগিদ ও নেই
কারন, বিদ্যুতের দেখা নেই
আমার তাতে কি আসে যায়-
আলোতো জ্বলে ঘরে- জেনারেটরের তেলের মজুদ ভাল
আমি নিশ্চিন্তে নাস্তার টেবিলে চেয়ার পেতে বসি
পাউরুটির গায়ে বিদেশী ম্যায়োনিজ লাগাই
দুপুরে ঠিকই চার পদের তরকারি সমেত লান্চ
আর রাতে রূপচাঁদা মাছ ভাজা, সাদাভাত-
সব খেয়ে প্রতিবারই তৃপ্তির ঢেকুর তুলি
(আমি জানতেও চাইনা
একি সময়ে কত হাজার ক্ষুদার্ত মুখ
আকাশের পানে তাকিয়ে
কবে নামবে ত্রানের হেলিকপ্টার, কবে মিলবে একটু আহার)
তার পরদিন
...............
মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে যাচ্ছ হাজার
খবরের পাতা জুড়ে মৃতের ছবি, লাশের পর লাশ
সবার মুখে একই কথা- কি হলো?কেন হলো?
কেউ বলছে, কেউ ভাবছে, কেউ বা ব্লগাচ্ছে
আমি খালি এদিক থেকে ওদিকে ঘুরি
কি করব, কি বলব-
আমি যে স্বার্থপর, আমার কিছুই বলার নাই
কারন, আমি যে আজও পেট পুরে ভাত খেয়েছি
দু'চার পদের মুখরোচক আইটেম সমেত
তৃপ্তির ঢেকুর যে আজও তুলতে ভুলিনি...।
এবং তার পর দিন
...................
আজও কোনও ব্যাতিক্রম নেই
শুধু বাড়ছে স্বজনদের আহাজারি
আর মৃতের সংখ্যা-
হাজার পেরিয়ে পনেরশ, তারপর দু'হাজার
আরও বাড়ছে প্রতিনিয়ত
আমার কি, তাতে?
ঐ মৃতদের মাঝে আমার কোনও আত্নীয় তো নেই
ঘরছাড়া দের মাঝেও পরিচিত কোন মুখ নেই
আমি টিভি পর্দায় চোখ রাখি
লাশের ছবি দেখে আহ্ উহ্ করি
আর তারপর খাবার টেবিলে বসি-
আর আমার চিরাচরিত নিয়মে আহার নিদ্রা সারি..।
অবশেষে আমি,
অনুভবে একটি ভয়ংকর ঘূর্নিঝড় টের পাই
সিডরের চেয়ে ভয়ানক, প্রলয়ংকরি-
আমার হৃদয়ের গভীরে-অনেক অনেএক গভীরে
এইতো, এই মাত্র, সব লন্ড ভন্ড করে দিয়ে গেল-
আমার মানবতা, মনুষ্যত্ববোধ, বিবেক-স-অ-ব!!!
যাদের নিয়ে আমি এতোদিন গর্বে বুক ফুলাতাম-
একদম সব -একবারেই এক ফুত্কারে উড়িয়ে নিয়ে গেল
রয়ে গেলাম এই আমি-
মনুষ্যত্বহীন, মানবতাহীন, বিবেকহীন
স্বার্থপর একটি প্রাণী
.............
১৮/১১/২০০৭
রাত ১১:০৯
___________________________________________________________
পুরনো প্রিয় পোস্টগুলো পারাপারের প্রয়াসে দ্বিতীয় পদক্ষেপ।
প্রকাশকাল-১৮ ই নভেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:০৯
পুরনো পোস্ট ১- তুমি এসেছিলে.........
তুমি এসেছিলে, অনাহূত কিংবা অপ্রত্যাশিত অতিথি হয়ে নও- অত্যন্ত প্রত্যাশিতভাবে, একেবারে ঠিক সময়টাতেই, খুব হিসেব নিকেশ করেই। তোমাকে বরন করে নেয়ার সে কি প্রচেষ্টা ছিল আমাদের। বরন টা তোমাকে ঠিক ভাবেই করেছিলাম- জীবনের ছকটাতেও নিয়মমতো লাগিয়ে দিলাম পরিবর্তনের ছোঁয়া।
প্রথম কয়েক দিন তোমায় পেয়ে খুশির অন্ত ছিল না। তুমি আর তোমার দেয়া শ্রেষ্ঠ উপহারটাকে চিরাচরিত নিয়মে কন্ঠে ধারনের প্রতিযোগিতা। এমনকি কম্পিউটার আর এম পি থ্রী প্লেয়ারেও তার সরব উপস্থিতি জানিয়ে দিল- তুমি এসেছ।
রাত জেগে তোমায় পাহারাও যে দিইনি কয়েকদিন তা নয়। অবশ্য কারনটা ছিল ভিন্ন। শুনেছি ঐ সময়টাতেই তোমার উপহারের ডালি খুলে বস- তাই লোভটা সামলাতে পারিনি-এই আর কি।
তবে প্রথম কয়েক দিনে যা হল এই ই সব......। উতসাহটা কালের পরিক্রমায় যথারীত দমে গেল। মাঝের কয়েকদিনে তো মনেই ছিল না তোমার উপস্থিতির কথা। শুধু ক্লাস, পড়া আর নিয়মিত কাজের ফাঁকে ঐ ক্লান্ত শরীরটার সুবাদে যা একটু বুঝছিলাম তাই। তোমার আগমনে জীবনের ছকে কি জানি একটা পরিবর্তন এসে গিয়েছিল বটে (তা অবশ্য পরিবেশের সাথে মিল রাখতে গিয়েই-সবাই যা করছে আমি কেন ব্যাতিক্রমী হব), কিন্তু মনে মগজে যা আনব ভেবেছিলাম তা আর আসল কই?
সব কাজতো চলেছেই আগের মতোই-ক্লাস, পড়ালেখা, টিভি দেখা, সেই সাথে নতুন যোগ হল - এই সামহোয়্যার ইনে ঢু মারা...(শুধু ঢু মারা বললে ভুল হবে বোধহয়- আবাস গড়া)।
তুমি আসার পর সময়টা কেমন তাড়াতাড়ি চলে গেল, টেরই পেলাম না। কখন ভোর হয়, আর কখন রাত, বুঝার সাধ্যি নেই। তারপর......। একদিন হঠাত টের পেলাম তোমার যাওয়ার বেলা হয়ে এল। তোমার উপস্থিতির যে আনন্দ, তার চেয়ে তোমার বিদায়বেলার উতসবের আনন্দটা অনেক বেশি। আর সেই সাথে প্রস্তুতিরও অনেক ব্যাপার থাকে।হঠাত মনে পড়ল, অনেক কাজই তো বাকি রয়ে গেল। এরপরের কাহিনী আর কি বলব- রাতদিন ঘুরাঘুরি- এখানে ওখানে, নানা রং এ সজ্জিত আর নবতর উদ্ভাবনে মেতে উঠা বিপণি বিতান গুলোয় ঢু মারার অন্তহীন প্রতিযোগিতা। ঘরের কোনটা ক্রমেই ভরে উঠল বর্ণিল সব কাগজের প্যাকেটে। আর ঘরের আরেক কোণে চুপটি মেরেই বসে রইলে তুমি, অযত্নে আর অবহেলায়......। সেই সাথে তোমার ঐ শ্রেষ্ঠ উপহার...... আবার ধুলো মলিন।
হঠাত দেখি তোমার যাওয়ার সময় হয়ে এল ...। আজ যাব কি কাল যাব করে একটা দিন রয়েই গেলে আমাদের মাঝে। জানিনা কি এক অভিমান নিয়ে আজ তুমি চলে যাচ্ছ...।
তখনি মনে হল, -" আরে একি! এভাবেই চলে যাবে তুমি। আয় হায়, তোমার জন্য তো কিছুই করা হল না......।" মনটা কিছুতেই মানতে চাচ্ছে না তুমি এভাবে চরম অবহেলায় আর অযত্নে চলে গিয়ে বিদায় নেবে অ-নে-ক দিনের জন্য।
যাবেই যখন আর তো রেখে দেয়ার উপায় দেখিনা। তোমার সময় যে শেষ। নিজেরই চুল টানতে ইচ্ছে করছে আজ। কেন যে আগে একটি বার মনে হল না...।
আচ্ছা, তুমি আবার আসবে তো আমার জীবনে?? আচ্ছা, তোমার মনে আছে, গতবার যখন তুমি এসেছিলে আমাদের মাঝে আর ও কতজন ছিল। আজ অনেকেই নেই, তোমায় আর একটিবার দেখে যেতে পারল না। ভাবতেই মনটা কি এক অজানা আতংকে শিহরিত হয়ে উঠে......... তোমায় আরও এক বার দুচোখ ভরে দেখতে পাব তো? নাকি এক বুক অভিমান নিয়ে যাওয়ার বেলায় আঁড়ি পেতে দিলে?
যদি তাই হয়, তবে এই পাহাড় সমান পাপ নিয়ে আমার মুক্তির আর কোনো উপায় আছে?
যাওয়ার বেলায় একটিবার দয়া করে মুখ ঘুরিয়ে বলে যাও। আচ্ছা তোমার কি চোখ আছে? একবার ফিরেই দেখ না - আমার চোখের অশ্রুর দিকে তাকিয়েও কি আমার প্রশ্নের জবাব দিবে না?
............
তুমি তো পবিত্র জানতাম। এতো নিষ্ঠুর হতে কিভাবে পারলে, হে রমজান মাস?
আমার অন্য বাংলা ব্লগে প্রকাশিত আমার ভাল লাগা কিছু লেখা এখানে পারাপার করার প্রচেষ্টায় এইটাই প্রথম প্রয়াস।
লেখাটি গত ঈদের আগের দিনে লেখা।
১৩ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৮:৪৫
Thursday, July 24, 2008
এই পথে পথিকের পদার্পন
এই জগতে ইহাই তাহার প্রথম পদার্পন নহে। ইতোপূর্বে নানা রূপে নানা রংএ এরূপ আরও কতিপয় জগতে পথিক পদার্পন করিয়াছিল। কিছুকাল পদব্রজ পালন করিয়া পরবর্তীতে ক্লান্ত পদভারে স্তিমিত হইয়া পড়িয়া থাকিয়াছে।
এই বারও পথিকের পথচলার কি হাল হইবে এখনই বলিবার উপায় নাই। সময়ই উহা বলিয়া দিবে।
তারপরও পথিক এই জগতে পদার্পন করিল, এবং এভাবেই উহা সদর্পে জানাইয়া দিল।
কেউ জানাক না জানাক, পথিক অতঃপর নিজেই নিজেকে একটি পোস্টের মাধ্যমে স্বাগতম জানাইল।