Friday, October 29, 2010
"তুমি কি পড়?", "তুমি কি কর?" এবং আমার "সগর্ব বেকারত্ব"
প্রশ্নকর্তার মনের ভাব দেখেই প্রশ্নের উত্তর দেই। যদি দেখি সত্যি কথাটা বলা যায় তাহলে প্রশ্নের উত্তরে বলিঃ মাস্টার্স দিলাম - কিংবা এমবিএ শেষ করলাম।
কিন্তু তাতে দেখি আরেক বিপদ। সাথে সাথেই বলে উঠে "এখন কি কর?"
এবারও যদি দেখি সত্য বলা যায়, তাহলে বলিঃ "দু'বছর জব করেছি, এখন ছেড়ে দিয়েছি।"(বেকার ঠিক বলা হয়ে উঠেনা, কারন আমরা সবাই জানি ঐটা উহ্য রাখাই শ্রেয়, শ্রোতা ওটা ধরে নিয়ে থাকে)
এতেই জ্বালা। সাথে সাথে আরো একশ'টা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়ঃ
"মানুষ এই দুর্মূল্যের বাজারে একটা জব পায়না, আর তুমি জব ছেড়ে দিয়েছ?" "কোথায় জব করতে?" "কেন ছেড়ে দিলে?" "ওমা! ওখানে জব করতে - ওখানে শুনেছি ডলারে বেতন দেয়, আর তুমি ছেড়ে দিলে!!"
পড়েছি এক মহা জ্বালায়!
Thursday, March 26, 2009
কি দেখার কথা কি দেখছি? (আমার সংস্করন)
কি দেখার কথা কি দেখছি?
কি শোনার কথা কি শুনছি?
কি ভাবার কথা কি ভাবছি?
কি বলার কথা কি বলছি?
৩৮ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি ।।
Friday, March 20, 2009
আমার পনেরো টাকা খেয়ে কি সে বড়লোক হবে?
সারাদিন কাজের চাপে কোনোদিকে তাকানোর সুযোগ হয়না। তাই এই রিকশা করে বাসায় ফেরার মুহূর্তটাকে একটু উপভোগ করার চেষ্টায় থাকি সবসময়। প্রতিদিনের মতো বিল্ডিং এর ভীড়ে আকাশটা হারিয়ে যাচ্ছে বলে দুঃখ করছিলাম আর সদ্য গড়ে ওঠা অসম্ভব সুন্দর সিডিএ মসজিদটির দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম, এইখানে একদিন নামায পড়তে আসতে হবে।
এমন সময় রিকশাওয়ালা হঠাৎ বলে উঠলেন "আমার পনেরো টাকায় কি সে বড়লোক হবে?"
Friday, October 31, 2008
দু'দিনের ভিসা
ওনার ব্লগের এই পোস্টটা পড়ে ভীষন অবাক হয়েছিলাম, আমার নিজের শহরে এমন নৃশংস ঘটনা নিত্যদিন ঘটে যাচ্ছে জেনে। তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম অনুবাদ করে আমার ব্লগে দিব। অনুমতিও মিলল চাইতেই। তবে ম্যালাদিন হয়ে গেল, লিখব লিখছি করে লিখা হয়ে উঠেনি।
আজ বহুদিন পর ভাবলাম, এখনই সময়। চুম্বক অংশটা মেইলে ছিল, ঐটাই অনুবাদ করেছি। বাকিটা পড়ে নেয়ার দায়িত্ব পাঠকের হাতে তুলে দিলাম।]
Thursday, October 23, 2008
আজ ঘুম ভাঙ্গাতে কে যে ডাকে ইশারায়...
হতে পারে। এমন প্রায়শঃই হয়ে থাকে। কখনও মাস-কিংবা বছরের জন্য- ইচ্ছেটা একদম মরে থাকে। মরে থাকে বললে একটু ভুল হবে, বলি ঘুমিয়ে থাকে- কুম্ভকর্ণের মতো।
লেখার ইচ্ছের কথা বলছিলাম।
অনেকদিন কিছু লেখা হয়না, মানে লিখতে ইচ্ছেই করেনা। ব্যাঙএর মতো একবার নয়, বছরে কয়েকবার হাইবার্নেশনে যাওয়া আমার এই ইচ্ছেটার নিত্য অভ্যাস।
এ কয়েক বছরের ব্লগ জীবনে এমনটা অনেকবারই হয়েছে।
ঈদের ব্যস্ততার পর অনেকটা দিনই তো চলে গেল। একবার ভেবেছিলাম বাড়িতে গিয়ে বয়সটা কিভাবে দশ বছর কমে গেল, আর সেই পিচ্চিকালের মত কত্ত মজাই না করলাম, তা নিয়ে ঈদের ছুটি শেষ হতেই লিখব।
তার আর সময় হলো কই। ছুটি শেষ তো বয়সটাও কিছু টের পাওয়ার আগেই এক লাফে বেড়ে গেল। দ্রব্যমূল্যের মত- বাড়তে গেলে একটু বেশিই বাড়ে- কমেছিল দশ, কিন্তু বাড়ল পনের। বয়স বাড়ার সাথে বাড়ল রোগ বালাই- ব্লগ আর লেখালেখিতে একদম এলার্জি ধরে গেল দেখি!- একে কি ডায়াবেটিস বলা যায়? লেখালেখি বুঝি মিষ্টি জাতীয় কিছু!!
Wednesday, September 17, 2008
জীবন মানে কি একটি অসম্পূর্ণ জিগস' পাজল?
এত্তো ভাইবোনের আড়ালে তাই বেড়ে উঠাটা দুঃখের চেয়ে আনন্দের বেশি ছিল। খেলার সাথীর যেমন কখনো অভাব হয়নি, তেমনি হয়নি রাংগা চোখেরও...।
দেখতে দেখতে সময় চলে যায়- সময়ের "আপন গতি" যে কখনও স্রোতস্বিনী নদী কিংবা নায়াগ্রা ফলসকেও হার মানায়, তা সময় চলে না গেলে বুঝার উপায় নেই।
Thursday, September 11, 2008
রমজানঃ মাসটা কি "ফাস্টিং" এর, নাকি "ফীস্টিং" এর ?
রমজান আসলেই চার দিকে একটি পরিবর্তন ঘটে যায়- লক্ষ্য করতে না চাইলেও চোখে যেন আপনা আপনিই ধরা দেয়- তাই এড়িয়ে যাওয়া যায় না-
মানুষের রোজা রাখা ক্লান্তভাব তেমন ভাবে চোখে না পড়লেও চোখে পড়তে বাধ্য হোটেল রেস্তোরাগুলোর অকস্মাত "হিজাব" অবলম্বন আর হিন্দু হোটেলের আধিক্য।
টিভির সংবাদ পাঠিকাদের মাথায় অতি কষ্টে উঠে যাওয়া আঁচলখানির কথা আর নাই বা বললাম।
Friday, September 5, 2008
আল জাযিরার সাথে আধা দিন ...(৩)
Tuesday, September 2, 2008
আল জাযিরার সাথে আধা দিন...(২)
বাদ পড়ে গেছে, গ্রামের বাড়িতে পৌছা মাত্রই, উঠোনে শুকোতে দেয়া লাল লাল মরিচ ওদের প্রথম আকর্ষন করে। সেই মরিচ দেখে ওদের মাথায় বুদ্ধি এল, এ দিয়েই সখিনার মা'কে পরিচয় করিয়ে দিবে ওরা। ওহহো, যেই মেয়েটির বাড়িতে বেড়াতে এসেছি, তার নামটাই যে সখিনা, তাই বোধহয় এতোক্ষণ বলে উঠা হয়নি। তো এতোক্ষনে নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, এ হচ্ছে বাংলাদেশের গ্রামের কোন ও এক সখিনার বিশ্বব্যাপী পরিচিত হয়ে উঠার গল্প।
Monday, September 1, 2008
আল জাযিরার সাথে আধা দিন...
Sunday, August 17, 2008
মাই ডিয়ার ফ্রেন্ড এনি
এনির সাথে দেখা হয়েছিল পরেরদিন অফিসে গিয়ে। খুব সুন্দর একটা টোল পড়া হাসি দিয়ে ধবধবে সাদা হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বরণ করে নিল চাইনিজ চেহারার মেয়েটি। জানতে পারলাম ওর জন্ম তাইওয়ানে হলেও ছোট বেলায় এমেরিকায় মাইগ্রেট করে এখন ও পুরোদস্তুর এমেরিকান। আপাততঃ মাসখানেকের জন্য বোস্টন অফিস থেকে ওকে পাঠানো হয়েছে চিটাগং অফিসটা সেটল করা পর্যন্ত থাকার জন্য।
তখনকার ছোট্ট অফিসটায় জুনিয়র সিনিয়র বস সাবর্ডিনেট সবাই মিলে একটা টেবিলের চারপাশে বসে যার যার ল্যাপটপে কাজ করার এক অদ্ভুত সিস্টেমে গিয়ে নিজেকে আবিষ্কার করলাম।প্রতিদিনই মিটিং হতো গত কর্ম দিবসের নানা আপডেট নিয়ে, আর আমার কাজটা ছিল মিটংএ বসে মিনিট টাইপ করা। এনি ছিল তখনো আমার অলিখিত সুপারভাইজার। ওর কাছ থেকেই নানান ধরনের কাজের এসাইনমেন্ট পেতাম আর কাজ শেষে রিপোর্টও করতাম ওকেই।
বস বস শুনালেও ২৫/২৬ বছরের এই প্রচন্ড কাজপাগল মেয়েটি (মহিলা বললে ভুল হবে) কখনোই বস মনে হয়নি। সদা হাস্যোজ্জল এনির স্বভাবই ছিল গম্ভীর মুহুর্ত গুলো তে ওর বিখ্যাত অট্টহাসি কিংবা একটা রসাত্মক কমেন্ট ঢুকিয়ে দিয়ে হাল্কা করে তোলা।
Saturday, August 2, 2008
চিঠি
এখন বুঝি ভুলে যেতে বসেছি চিঠি লিখার ভাষা।
প্রথম চিঠি কবে লিখেছিলাম? মনে পড়ে চার বছর বয়সে মা-বাবার সাথে যখন পাড়ি জমিয়েছিলাম , সেই দূর অজানার দেশে, তখন থেকেই আমার চিঠি লিখার শুরু। "আলিফ বা" আর এবিসিডি তখন শেখা হয়ে গেলেও বাংলা মায়ের বর্ণমালার সাথে তখনও কেবল পরিচয় হবে, হচ্ছে। সখ্যতা হয় আরো পরে- বাবা যখন পার্মানেন্ট ইঙ্কে একটা ঝুলন্ত বোর্ডের গায়ে বর্ণমালা লিখে ঝুলিয়ে দিলেন চোখের সামনে- আর মা যখন দেশ থেকে নিয়ে যাওয়া বাল্য শিক্ষা ধরিয়ে দিলেন হাতে-তারপর থেকে।
Friday, August 1, 2008
একটু এপ্রিসিয়েশন এবং...
হায়ার এন্ড ফায়ার কেবল একটি ঈমেইলের ব্যাপার। জলজ্যান্ত প্রমাণ দেখলাম জয়েন করার দু সপ্তাহের মাথায়, আমাদের সিনিয়র মোস্ট স্টাফকে ঢাকার ক্ষুদ্র অফিসে ট্রান্সফার করার মত অবিশ্বাস্য ঘটনা অবলোকন করে।
অফিসটাও যদিও চট্টগ্রামে, বোস্টনের হেড অফিস থেকেই সব নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তাই এখানকার পরিবেশটা হাইব্রিড-এমেরিকান আর বাংগালির মিশেল। বাংগালির স্বভাবজাত পলিটিক্স আর গ্রুপিং ও দেখলাম এ কয়েকদিনেই শুরু হয়েছে (এখানকার অফিসটা ফুল সুয়িং এ চালু হয়েছে কেবল মার্চ থেকে)। আর এদিকে এমেরিকানদের "জব টাইটেল নয়, তুমি কি কাজ কর সেইটাই ইম্পরট্যান্ট" টাইপের মনোভাবও ভালভাবে ঢুকিয়ে দেয়া হয়।
তাই তিন মাসের ইন্টার্নশিপ আর দেড় মাসের চাকুরির মাথায় আমার অনেকধরনের অভিজ্ঞতাই হয়ে গেছে। ইন্টার্ন হিসেবে "যা করার জন্য কেউ নাই" তা সবই করতে হয়েছে, আর এখন যদিও আমার ডেসিগনেশনটা তেমন গালভারি কিছু না, দায়িত্ব চাপায় দেয়ার সময় ভার বইবার শক্তি যাচাই করে না।
এর মধ্যে সময় বেসময়ে অফিস করে শরীরের যাচ্ছেতাই অবস্থা হলেও, একটাই প্লাস পয়েন্টঃ প্রতিনিয়তঃই শিখা হচ্ছে- নতুন কিছ। আর সবচেয়ে বেশি শেখা হচ্ছে পার্থক্যটা, আমাদের আর "ওদের" মধ্যে।
এ কয়েকদিনের অভিজ্ঞতায় একটু হলেও বুঝতে পারলাম, কেন "ওরা" এতো উন্নত, কেন "ওরা" সুপার পাওয়ার হয়ে বিশ্ব চালাতে পারছে।
Friday, July 25, 2008
এবং নতুনতম পুরনো পোস্ট- "ক্ষমা করো, মা!"
কতোদিন?
সেই পিচ্চিকালে মনে আছে তুমি কখনও আমাদের ছেড়ে কোথাও যেতেনা। একদিন বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখেছিলাম, তুমি আমায় ফেলে কোথায় জানি চলে যাচ্ছ। এখনও মনে আছে, অভিযোগ করে বিশাল জোরে কান্না জুড়ে দিয়েছিলাম "এ কেমন মা?!"
এখনও হাসির পাত্রী হতে হয় সেই আঠার ঊনিশ বছর আগের কথায়!
এরপর একদিন তুমি ঘরে রইলে, আমিই বের হতে শুরু করলাম। যেই লাল জামা পরে কেজি স্কুলে যেতাম, ওটার কথা নিশ্চয় তোমার এখনও মনে আছে, না মা? পিছন থেকে দেখতে ঠিক প্রজাপতির মতো লাগত। সেই থেকে শুরু, আমার প্রজাপতির মত উড়াউড়ি।
পুরনো পোস্ট ২- স্বার্থপরের পদাবলী
১৫ তারিখ রাত
...............
ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস শুনেছি
নয় নং মহা বিপদ সংকেত
পুন: পুন:বার উচ্চারিত হচ্ছে চতুর্দিকে
জলোচ্ছ্বাস ও হতে পারে
দশ কিংবা পনের ফুট উঁচু
সুরক্ষিত দুর্গে আমার বাস-
পাহাড়ের পাদদেশে
সী লেভেলের অনেক উঁচুতে
সারা শহর যখন সেদিন তলিয়ে গিয়েছিল
সেদিনও আমাদের এই দুর্গ সদৃশ দালানে- গেটতক পানি আসতে পারেনি
যাক সে কথা,
আজ ভাবছি, কি আর হবে এমন?
মোটা পুরু কাঁচের জানালা বন্ধ করে দিলাম
থাই এলুমিনিয়ামের নিশ্ছিদ্র বেষ্টনী
শীতের কাঁপুনি ধরিয়ে দেয়া হাওয়া নেই
তবু সুরক্ষার জন্য গায়ে কাঁথা জড়াই
বিদেশী কম্বলও রাখা পায়ের কাছে-
পাছে রাতে শীত বেড়ে যায়
নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিলাম রাত
হুশ হাশ শব্দে মাঝে মাঝে ঘুমে ছেদ পড়েনি তা নয়
আবার কাত ফিরে দ'চোখ বুজে স্বপ্নে ডুবি
এই তো আমি- এক নিঠুর স্বার্থপরের প্রতিচ্ছবি
পুরনো পোস্ট ১- তুমি এসেছিলে.........
তুমি এসেছিলে, অনাহূত কিংবা অপ্রত্যাশিত অতিথি হয়ে নও- অত্যন্ত প্রত্যাশিতভাবে, একেবারে ঠিক সময়টাতেই, খুব হিসেব নিকেশ করেই। তোমাকে বরন করে নেয়ার সে কি প্রচেষ্টা ছিল আমাদের। বরন টা তোমাকে ঠিক ভাবেই করেছিলাম- জীবনের ছকটাতেও নিয়মমতো লাগিয়ে দিলাম পরিবর্তনের ছোঁয়া।
প্রথম কয়েক দিন তোমায় পেয়ে খুশির অন্ত ছিল না। তুমি আর তোমার দেয়া শ্রেষ্ঠ উপহারটাকে চিরাচরিত নিয়মে কন্ঠে ধারনের প্রতিযোগিতা। এমনকি কম্পিউটার আর এম পি থ্রী প্লেয়ারেও তার সরব উপস্থিতি জানিয়ে দিল- তুমি এসেছ।
রাত জেগে তোমায় পাহারাও যে দিইনি কয়েকদিন তা নয়। অবশ্য কারনটা ছিল ভিন্ন। শুনেছি ঐ সময়টাতেই তোমার উপহারের ডালি খুলে বস- তাই লোভটা সামলাতে পারিনি-এই আর কি।
তবে প্রথম কয়েক দিনে যা হল এই ই সব......। উতসাহটা কালের পরিক্রমায় যথারীত দমে গেল। মাঝের কয়েকদিনে তো মনেই ছিল না তোমার উপস্থিতির কথা। শুধু ক্লাস, পড়া আর নিয়মিত কাজের ফাঁকে ঐ ক্লান্ত শরীরটার সুবাদে যা একটু বুঝছিলাম তাই। তোমার আগমনে জীবনের ছকে কি জানি একটা পরিবর্তন এসে গিয়েছিল বটে (তা অবশ্য পরিবেশের সাথে মিল রাখতে গিয়েই-সবাই যা করছে আমি কেন ব্যাতিক্রমী হব), কিন্তু মনে মগজে যা আনব ভেবেছিলাম তা আর আসল কই?
সব কাজতো চলেছেই আগের মতোই-ক্লাস, পড়ালেখা, টিভি দেখা, সেই সাথে নতুন যোগ হল - এই সামহোয়্যার ইনে ঢু মারা...(শুধু ঢু মারা বললে ভুল হবে বোধহয়- আবাস গড়া)।
তুমি আসার পর সময়টা কেমন তাড়াতাড়ি চলে গেল, টেরই পেলাম না। কখন ভোর হয়, আর কখন রাত, বুঝার সাধ্যি নেই। তারপর......। একদিন হঠাত টের পেলাম তোমার যাওয়ার বেলা হয়ে এল। তোমার উপস্থিতির যে আনন্দ, তার চেয়ে তোমার বিদায়বেলার উতসবের আনন্দটা অনেক বেশি। আর সেই সাথে প্রস্তুতিরও অনেক ব্যাপার থাকে।হঠাত মনে পড়ল, অনেক কাজই তো বাকি রয়ে গেল। এরপরের কাহিনী আর কি বলব- রাতদিন ঘুরাঘুরি- এখানে ওখানে, নানা রং এ সজ্জিত আর নবতর উদ্ভাবনে মেতে উঠা বিপণি বিতান গুলোয় ঢু মারার অন্তহীন প্রতিযোগিতা। ঘরের কোনটা ক্রমেই ভরে উঠল বর্ণিল সব কাগজের প্যাকেটে। আর ঘরের আরেক কোণে চুপটি মেরেই বসে রইলে তুমি, অযত্নে আর অবহেলায়......। সেই সাথে তোমার ঐ শ্রেষ্ঠ উপহার...... আবার ধুলো মলিন।
হঠাত দেখি তোমার যাওয়ার সময় হয়ে এল ...। আজ যাব কি কাল যাব করে একটা দিন রয়েই গেলে আমাদের মাঝে। জানিনা কি এক অভিমান নিয়ে আজ তুমি চলে যাচ্ছ...।
তখনি মনে হল, -" আরে একি! এভাবেই চলে যাবে তুমি। আয় হায়, তোমার জন্য তো কিছুই করা হল না......।" মনটা কিছুতেই মানতে চাচ্ছে না তুমি এভাবে চরম অবহেলায় আর অযত্নে চলে গিয়ে বিদায় নেবে অ-নে-ক দিনের জন্য।
যাবেই যখন আর তো রেখে দেয়ার উপায় দেখিনা। তোমার সময় যে শেষ। নিজেরই চুল টানতে ইচ্ছে করছে আজ। কেন যে আগে একটি বার মনে হল না...।
আচ্ছা, তুমি আবার আসবে তো আমার জীবনে?? আচ্ছা, তোমার মনে আছে, গতবার যখন তুমি এসেছিলে আমাদের মাঝে আর ও কতজন ছিল। আজ অনেকেই নেই, তোমায় আর একটিবার দেখে যেতে পারল না। ভাবতেই মনটা কি এক অজানা আতংকে শিহরিত হয়ে উঠে......... তোমায় আরও এক বার দুচোখ ভরে দেখতে পাব তো? নাকি এক বুক অভিমান নিয়ে যাওয়ার বেলায় আঁড়ি পেতে দিলে?
যদি তাই হয়, তবে এই পাহাড় সমান পাপ নিয়ে আমার মুক্তির আর কোনো উপায় আছে?
যাওয়ার বেলায় একটিবার দয়া করে মুখ ঘুরিয়ে বলে যাও। আচ্ছা তোমার কি চোখ আছে? একবার ফিরেই দেখ না - আমার চোখের অশ্রুর দিকে তাকিয়েও কি আমার প্রশ্নের জবাব দিবে না?
............
তুমি তো পবিত্র জানতাম। এতো নিষ্ঠুর হতে কিভাবে পারলে, হে রমজান মাস?
আমার অন্য বাংলা ব্লগে প্রকাশিত আমার ভাল লাগা কিছু লেখা এখানে পারাপার করার প্রচেষ্টায় এইটাই প্রথম প্রয়াস।
লেখাটি গত ঈদের আগের দিনে লেখা।
১৩ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৮:৪৫
Thursday, July 24, 2008
এই পথে পথিকের পদার্পন
এই জগতে ইহাই তাহার প্রথম পদার্পন নহে। ইতোপূর্বে নানা রূপে নানা রংএ এরূপ আরও কতিপয় জগতে পথিক পদার্পন করিয়াছিল। কিছুকাল পদব্রজ পালন করিয়া পরবর্তীতে ক্লান্ত পদভারে স্তিমিত হইয়া পড়িয়া থাকিয়াছে।
এই বারও পথিকের পথচলার কি হাল হইবে এখনই বলিবার উপায় নাই। সময়ই উহা বলিয়া দিবে।
তারপরও পথিক এই জগতে পদার্পন করিল, এবং এভাবেই উহা সদর্পে জানাইয়া দিল।
কেউ জানাক না জানাক, পথিক অতঃপর নিজেই নিজেকে একটি পোস্টের মাধ্যমে স্বাগতম জানাইল।