Showing posts with label কর্মক্ষেত্র. Show all posts
Showing posts with label কর্মক্ষেত্র. Show all posts

Friday, September 5, 2008

আল জাযিরার সাথে আধা দিন ...(৩)

পরের দৃশ্য ছিল সখিনার বাবার ইন্টারভিউ।উনি বলছেন আর আমি অনুবাদ টা লিখে নিচ্ছিলাম। গ্রামের একজন সহজ সরল অল্পশিক্ষিত বাবা হয়েও শিক্ষার গুরুত্ব উনি ঠিকই উপলব্ধি করতে পেরেছেন, আর তাই উনার মেয়েকে শিক্ষিত করতে উনার সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করতে উনি কখনও পিছপা হননি। আজ তিনি মনে করেন উনার মেয়েকে এমন পর্যায়ে পৌছে দিয়েছেন, মেয়ে বিয়ে দিতে আর উনাকে যৌতুকের সরনাপন্ন হতে হবে না। এতটুকু বলতেই ইন্টারভিউর সমাপ্তি ঘোষনা করা হলেও উনি জানালেন এখনো উনার সবটুকু বলা হয়নি। উনি আরো বলতে চান। এর বেশি সময় দেবার মত সময় ওদের হাতে নেই বলতেই বুঝা গেল একটু মনঃক্ষুন্ন হয়েছেন উনি। আমাকে জানালেন উনি শেষ করতে চান "আমার মতে দেশের সব নাগরিকের উচিত নিজের সন্তানদের সুশিক্ষিত করে তুলতে কোনো প্রকার অবহেলা না করা" এই কথাটা দিয়ে। অগত্যা অনুবাদে কথাটা যুক্ত করে দিলাম।

Monday, September 1, 2008

আল জাযিরার সাথে আধা দিন...

‘মিডিয়ার কাছে আমার একটা প্রশ্ন আছেঃ “মিডিয়ার কাছে “বাংলাদেশ” বলতে ঠিক কি বুঝানো হয়?”’ প্রশ্নটা করছিলাম আল জাযিরার নিউজ প্রেজেন্টার এওয়ার্ড উইনার পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ মুসলিম সোহেল রহমান কে।
নিশ্চয় ভাবছেন সুযোগটাই বা কোথায় পেলাম? হুম, তাই বলতেই আজ অনেক ব্যস্ততার মধ্যেও, রমজানের ঠিক আগের দিন রমজান বিষয়ক পোস্ট না করে এমন একটা পোস্ট লিখতে ব্লগে ঢুকলাম।
ঘটনার শুরু গত সোমবারের অফিসের স্টাফ মিটিংএ, যখন জানানো হল আল জাযিরার প্রতিনিধি আসবে আমাদের ইউনি কভার করতে, আগামী সোমবার। প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেল ওদের জন্য নানা আয়োজনের। অন্যান্য প্রতিবার আমাকে এইখানে কোনো না কোন দায়িত্ব দিয়ে রাখলেও এইবার তেমন কোনো দায়িত্ব ছিল না ভেবে গায়ে হাওয়া লাগাচ্ছিলাম পুরো সপ্তাহ জুড়েই।
আজ যথারীতি চলে আসল আল জাযিরার ৪ জনের একটা টিম। সিনিয়র স্টাফদের ব্রিফিং, এক্সেকিউটিভ ডিরেক্টর আর ডীন মহোদয়া গণ দের ইন্টারভিউ ও নিয়ে ফেলল ওরা, সেই সাথে ক্লাসরুমের কিছু ছবিও।
তারপর হঠাত জানান হল, এতোদিন ধরে ছাত্রীদের দিয়ে যত্ত সব কর্মকান্ড দেখানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, এইসব ওরা তুলতে চায়না, ওদের ইচ্ছে কোন ছাত্রীর গ্রামের বাড়ি ঘুরতে যাবে আর দেখাবে এইখানে ঠিক কত গ্রামীণ পরিবেশের মেয়েরা আসার সুযোগ পেয়েছে।
উড়ে এসে জুড়ে বসানোর মত আমাকে এনে বসিয়ে দেয়া হল ওদের সাথে গাড়িতে, যেতে হবে চন্দনাইশ, যা কিনা প্রায় এক ঘন্টার পথ চট্টগ্রামের মেইন টাউন থেকে।

Sunday, August 17, 2008

মাই ডিয়ার ফ্রেন্ড এনি

এনির নামটা প্রথম শুনেছিলাম, থুক্কু পড়েছিলাম, বসের ইমেইলের সিসি ফিল্ডে। ইমেইলটি ছিল অঘোষিত এক্সেপ্টেন্স লেটার, আমার ইন্টার্নশিপ এপ্লিকেশনের।
এনির সাথে দেখা হয়েছিল পরেরদিন অফিসে গিয়ে। খুব সুন্দর একটা টোল পড়া হাসি দিয়ে ধবধবে সাদা হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বরণ করে নিল চাইনিজ চেহারার মেয়েটি। জানতে পারলাম ওর জন্ম তাইওয়ানে হলেও ছোট বেলায় এমেরিকায় মাইগ্রেট করে এখন ও পুরোদস্তুর এমেরিকান। আপাততঃ মাসখানেকের জন্য বোস্টন অফিস থেকে ওকে পাঠানো হয়েছে চিটাগং অফিসটা সেটল করা পর্যন্ত থাকার জন্য।

তখনকার ছোট্ট অফিসটায় জুনিয়র সিনিয়র বস সাবর্ডিনেট সবাই মিলে একটা টেবিলের চারপাশে বসে যার যার ল্যাপটপে কাজ করার এক অদ্ভুত সিস্টেমে গিয়ে নিজেকে আবিষ্কার করলাম।প্রতিদিনই মিটিং হতো গত কর্ম দিবসের নানা আপডেট নিয়ে, আর আমার কাজটা ছিল মিটংএ বসে মিনিট টাইপ করা। এনি ছিল তখনো আমার অলিখিত সুপারভাইজার। ওর কাছ থেকেই নানান ধরনের কাজের এসাইনমেন্ট পেতাম আর কাজ শেষে রিপোর্টও করতাম ওকেই।

বস বস শুনালেও ২৫/২৬ বছরের এই প্রচন্ড কাজপাগল মেয়েটি (মহিলা বললে ভুল হবে) কখনোই বস মনে হয়নি। সদা হাস্যোজ্জল এনির স্বভাবই ছিল গম্ভীর মুহুর্ত গুলো তে ওর বিখ্যাত অট্টহাসি কিংবা একটা রসাত্মক কমেন্ট ঢুকিয়ে দিয়ে হাল্কা করে তোলা।